আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

High Court-Paresh Ram : হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি পরেশরাম দাসের: ৩০ জুন পর্যন্ত গ্রেফতারি নয়, তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি: -সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক পরেশরাম দাস। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিধায়ককে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে নির্দেশ দেন, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্ত চলবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বিধায়ককে।

সূত্রের খবর, বিধায়ক পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মোট চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এই এফআইআরগুলির তারিখ ১৬ মে, ২০২৬। অভিযোগের মূল অংশ জুড়ে রয়েছে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার মতো ধারা। গত এপ্রিল মাসে ক্যানিংয়ে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের কভারেজ করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক বাধার মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেখানেই বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং ক্যামেরা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ভিত্তিতেই প্রথম এফআইআর দায়ের হয়।

এছাড়াও ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পরবর্তী হিংসার ঘটনায় পরেশরাম দাসের নামে দুটি পুরনো মামলা রয়েছে। অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলের কর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ মদত ছিল। চতুর্থ এফআইআরটি দায়ের হয়েছে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় তৈরির অভিযোগে। জমি মাফিয়া চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়েছে এফআইআরে।

আদালতে বিধায়কের আইনজীবী দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলাগুলি করা হয়েছে। পুরনো ঘটনা টেনে এনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও সরকারি আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন, প্রতিটি অভিযোগের পিছনে নির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তদন্ত জরুরি। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন। তবে স্পষ্ট জানান, তদন্ত বন্ধ হবে না। বিধায়ককে নোটিস পেলে থানায় হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে। সহযোগিতা না করলে রাজ্য সরকার ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। এই আবহে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়কের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর এবং হাইকোর্টের রক্ষাকবচ নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করল। একদিকে বিধায়কের দাবি, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, আইন আইনের পথে চলবে। ৩০ জুন পর্যন্ত গ্রেফতারি না হলেও তদন্তের গতি কোন দিকে যায় সেটাই এখন দেখার। আপাতত সাময়িক স্বস্তিতে পরেশরাম দাস, কিন্তু আইনি লড়াই যে দীর্ঘ হবে তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *