আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোটের মুখে অভিষেক-রুজিরার গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ কমিশনের!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই চরমে পৌঁছাল রাজনৈতিক তরজা। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্ফোরক অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। জোড়া-ফুল শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি তল্লাশি করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে গোপন নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ঠিক কী ঘটেছে?
​তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে একটি বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বার্তায় দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্যশিবিরের আড়ালে টাকা সরানো হচ্ছে। এই কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের প্রায় সমস্ত নেতা-মন্ত্রীর গাড়ি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষভাবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই দুইজনের গাড়ি যেন কোনোভাবেই চেকিংয়ের বাইরে না যায়।
তৃণমূলের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
​এই স্ক্রিনশট প্রকাশ্যে আসতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে:
প্রতিহিংসার রাজনীতি: পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিজেপি কমিশনকে ব্যবহার করে এই ধরণের প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে।
​প্রচার টার্গেট: শুধুমাত্র গাড়ি তল্লাশি নয়, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচিকেও পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: কমিশনের এই ভূমিকা প্রমাণ করে যে তারা নিরপেক্ষ নয়, বরং বিজেপির স্বার্থ চরিতার্থ করতেই কাজ করছে।
​”নির্বাচন কমিশন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আমাদের নেতাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর নজরদারি ও তল্লাশি চালাতে বলছে। এটি স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” — তৃণমূল কংগ্রেস
​প্রেক্ষাপট
​বর্তমানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই পুলিশ ও প্রশাসনে একাধিক রদবদল ঘটিয়েছে কমিশন। তবে তৃণমূলের দাবি, এই রদবদল এবং সাম্প্রতিক তল্লাশির নির্দেশ আসলে বিরোধী কণ্ঠ রোধ করার একটি কৌশল।
​এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ভোটের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে কয়েক গুণ চড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *