এমবাপে-দেম্বেলের দাপটে মরক্কোকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের সেমিতে ফ্রান্স
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:- চার বছর আগের সেমিফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল ফ্রান্স। এমবাপে এবং দেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে মরক্কোকে হারিয়ে ফের বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল দিদিয়ের দেশঁর দল। বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা থাকল ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’।
শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রেখেছিল ফ্রান্স। এমবাপে, দেম্বেলে, ওলিসে এবং দুয়ে মিলে মরক্কোর রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনে। কিন্তু মরক্কোর শেষ প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। প্রায় একার কাঁধে দলকে টেনেছেন তিনি।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে বড় সুযোগ পায় ফ্রান্স। দুয়ের পাস থেকে এমবাপেকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন মাজরাউই। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। প্রায় ৩ মিনিট ভিএআর দেখার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। কিন্তু স্পটকিক থেকে এমবাপের শট অত্যন্ত দুর্বল হয়। সহজেই তা তালুবন্দি করেন বোনো।
প্রথমার্ধে আরও সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। দেম্বেলের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুয়ের জোরাল শটও বাঁচান বোনো। যোগ করা সময়ে ডিগনের দূরপাল্লার শট লেগে যায় ক্রসবারে। অন্যদিকে মরক্কো পুরোটাই নির্ভর ছিল কাউন্টার অ্যাটাকের উপর। ব্রাহিম দিয়াজ কয়েকবার বল নিয়ে এগোলেও সালিবা-কোনাটেদের ফরাসি ডিফেন্স টপকাতে পারেননি। হাকিমির ফ্রি-কিকও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বল দখলে ৬৩ শতাংশ এগিয়ে থেকেও গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় ফ্রান্স। ৬০ মিনিটে সেই অপেক্ষার অবসান। বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁক খাওয়ানো শটে জাল কাঁপান এমবাপে। চলতি বিশ্বকাপে এটা তাঁর ৮ নম্বর গোল। আর সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ২০ গোল করে কিংবদন্তিদের তালিকায় নাম লেখান তিনি।
২-০ করতে বেশি সময় লাগেনি। ৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে বল পেয়ে এমবাপে ওয়ান-টাচে বাড়ান দেম্বেলেকে। ডান দিক থেকে ঢুকে নিচু শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পিএসজি তারকা। বিশ্বকাপে এটা তাঁর পঞ্চম গোল।
গোল খেয়ে মরক্কো মরিয়া হয়ে ওঠে। হাকিমি, উনাহি, এল আইনাউইরা চেষ্টা করেও ফরাসি রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। ৭৭ মিনিটে সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখে এমবাপেকে তুলে নেন কোচ দেশঁ। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানেই শেষ হয় খেলা।
ফুটবল সত্যিই নির্মম। চার বছর আগে সেমিতে স্বপ্নভঙ্গ, এবারও একই গল্প। ফ্রান্সের আক্রমণ আর বোনোর একার লড়াই – দুইয়ের মাঝে ব্যবধান গড়ে দিল এমবাপে-দেম্বেলে জুটি। এই ফর্মের ফ্রান্সকে হারানো এখন সত্যিই কঠিন। ‘ফরাসি বিপ্লব’ চলছে, এবং তা শেষ চারে পৌঁছে আরও জোরালো হল।
