বিজেপি কর্মীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, গ্রেপ্তার নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নৈহাটি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের গ্রেপ্তানির তালিকায় যুক্ত হলো আরও একটি বড় নাম। এবার পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়। আজ, বুধবার সকালে নৈহাটি থানার পুলিশ তাঁর বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুরোনো মামলায় জোড়া ধাক্কা
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং এক নারীর শ্লীলতাহানির মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল অশোক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার তদন্ত চলার পর আজ সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই একই ধরণের অভিযোগে তাঁর ছেলেকেও গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ফলে এই ঘটনায় চট্টোপাধ্যায় পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ধাক্কা লাগলো বলেই মনে করা হচ্ছে।
পুরসভায় অচলাবস্থা ও নেপথ্যের ইতিহাস
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই নৈহাটি পুরসভার কাজকর্মে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। অশোক চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের কাউন্সিলররা দপ্তরে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গিয়েছিল নাগরিক পরিষেবা।
-
মে মাসের বিক্ষোভ: গত মে মাসে অশোক চট্টোপাধ্যায় পুরসভায় গেলে তাঁকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। অভিযোগ, সেসময় তাঁকে হেনস্থা করে পুরসভা ছাড়তে বাধ্য করা হয় এবং কয়েকজন পুরকর্মীকেও মারধর করা হয়।
-
পদত্যাগ: এই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই প্রবীণ এই নেতা পুরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন।
১০ দিনের হেফাজত চাইছে পুলিশ
ধৃত প্রাক্তন পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা, মারামারি এবং শ্লীলতাহানির মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজই তাঁকে বারাকপুর আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারীরা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন আদালতের কাছে।
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে নৈহাটি এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলা হলেও, বিজেপির দাবি—আইন নিজের পথেই চলছে।
