বুদ্ধ-জায়া মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: আদর্শের লড়াই নিজের জায়গায়, কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি সম্মান রক্ষায় কোনো আপস নয়—এই বার্তা দিয়েই এক অনন্য রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির গড়তে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। ৫৯এ, পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই ঐতিহাসিক ছোট্ট ফ্ল্যাট, যেখানে মীরা দেবী বর্তমানে একাকী বসবাস করেন, সেখানে আবারও ফিরতে চলেছে সরকারি নিরাপত্তা বলয়।
বিগত সরকারের ‘অসৌজন্য’ বনাম নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। রেখে যান স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য ও সন্তান সুচেতনকে। অভিযোগ ওঠে, বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের পরপরই তৎকালীন তৃণমূল সরকার পাম অ্যাভিনিউয়ের ফ্ল্যাট থেকে সমস্ত সরকারি নিরাপত্তা তুলে নেয়।
তবে ২০২৫ সালের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বিগত সরকারের সেই ‘অসৌজন্যমূলক’ সিদ্ধান্তকে শুধরে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শগত চরম বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শনকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই অনাড়ম্বর জীবন
জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্বও একসময়ে বুদ্ধবাবুকে এই ফ্ল্যাট বদলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আমৃত্যু তাঁর এই অতি সাধারণ আস্তানাতেই থেকে গেছেন। স্বামীর প্রয়াণের পরও বর্ষীয়সী মীরা দেবী সেই অনাড়ম্বর জীবনযাত্রাতেই অটল রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকেন।
নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মীরা দেবী
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর মীরা ভট্টাচার্য নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বামপন্থী মতাদর্শের মানুষ হয়েও নতুন সরকারের কাছে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন: “২০১১ সালের আগে বাংলায় যে সিন্ডিকেট রাজ ছিল না, সেই শান্ত ও স্বচ্ছ পরিস্থিতি যেন আবার ফিরে আসে। নির্বাচনের সময় গেরুয়া শিবির যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা যেন পূরণ করা হয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মীরা দেবীর সেই ইতিবাচক মনোভাব এবং রাজ্যের একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন। দৈনন্দিন প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বাংলার বুকে এক সুস্থ ও সৌজন্যের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
