ভারতরাজনীতি

Farmer-Republic Day : প্রজাতন্ত্র দিবসে ফের পথে অন্নদাতারা, দেশজুড়ে ‘পিপলস মার্চে’র ডাক কৃষকদের…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আবার পথে নামছেন অন্নদাতারা। মোদী সরকারের কৃষি বিলের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের সর্ববৃহৎ কৃষক আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল, তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের নতুন কর্মসূচির ডাক দিল কৃষক সংগঠনগুলি। আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশব্যাপী ‘পিপলস মার্চে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষকরা।

সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকে সোমবার বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাক্টর প্যারেড ও বাইক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সংগঠন সূত্রে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে রিপাবলিক ডে প্যারেড শেষ হওয়ার পরেই এই কর্মসূচি শুরু হবে, যাতে সরকারি অনুষ্ঠানে কোনও রকম বিঘ্ন না ঘটে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসেই কৃষকদের ট্রাক্টর প্যারেড ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। লালকেল্লা এলাকায় ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যুও হয়েছিল। যদিও কৃষক সংগঠনগুলির দাবি ছিল, ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁদের কোনও প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। বরং আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করতে পরিকল্পিত চক্রান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে তারা।

চার বছর পর ফের সাধারণতন্ত্র দিবসেই কৃষকরা পথে নামতে চলায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে।

সংযুক্ত কিষান মোর্চা জানিয়েছে, এবারের আন্দোলন শুধুমাত্র কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শ্রম সংক্রান্ত একাধিক দাবিতে কৃষকদের সঙ্গে শ্রমিক ও কর্মচারীরাও শামিল হতে পারেন। ফলে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

অন্যদিকে, গ্রামস্তরে আন্দোলনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। জি আর এম জি বিল প্রত্যাহার করে মনরেগা আইন কার্যকর করার দাবিতে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট আধিকারিকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিয়ে সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধেই এই দাবি বলে জানিয়েছে তারা।

কৃষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, একাধিক প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) কৃষি উৎপাদনের খরচ, ঋণ মকুব এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান এই সব ইস্যুতে সরকারের সদিচ্ছা নেই বলেই ফের পথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো জাতীয় দিবসে কৃষকদের এই কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলবে এবং সরকারের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই এখন নজর দেশজুড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *