দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: প্রথম দফায় যা দেখা যায়নি, দ্বিতীয় দফা মিটতেই সেই চেনা ছবি ফিরল বাংলায়। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে রাজ্যের ৪৪,৩৭৬টি বুথের একটিতেও পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠল। আজ, বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন।
কোথায় কতগুলি অভিযোগ?
কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জমা পড়া ৭৭টি অভিযোগের সিংহভাগই এসেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির পক্ষ থেকে। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
-
ফলতা: ৩২টি (সর্বোচ্চ)
-
ডায়মন্ড হারবার: ২৯টি
-
মগরাহাট: ১৩টি
-
বজবজ: ৩টি
অভিনব কারচুপি! স্পাই ক্যামেরা ও আতর বিতর্ক
এবারের ভোটে অভিযোগের ধরন দেখে তাজ্জব কমিশন কর্তারাও। কোথাও ইভিএমের বোতামে টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও বোতামে মাখিয়ে দেওয়া হয়েছে কড়া গন্ধের আতর। ক্যামেরার লেন্স ঢেকে দেওয়া হয়েছে রুমাল দিয়ে।
তবে সবথেকে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এসেছে মগরাহাট পশ্চিম থেকে। সেখানে অভিযোগ উঠেছে, ভোটারের জামার পকেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল স্পাই ক্যামেরা। ভোটার কোন প্রতীকে ছাপ দিচ্ছেন, তা দূর থেকে শনাক্ত করতেই এই ফন্দি আঁটা হয়েছে বলে অভিযোগ। ভোটাধিকার হরণের এই মারাত্মক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
নজরে ‘সিংঘম’ ও কমিশনের বৈঠক
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণ ২৪ পরগনার দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ক্যাডারের আইপিএস তথা ‘সিংঘম’ হিসেবে পরিচিত অজয় পাল শর্মা। তিনি নিজে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি তদারকি করলেও এত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ ওঠায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর: আজ বিকেলের বৈঠকেই স্থির হবে ঠিক কতগুলি বুথে নতুন করে ভোট নেওয়া হবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সম্ভবত আগামী ১ মে নির্দিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন হতে পারে।
প্রথম দফায় যেখানে একটিও অভিযোগ জমা পড়েনি, সেখানে দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে কেন্দ্র করে এই বিস্ফোরক পরিস্থিতি কমিশনের নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। এখন দেখার, আজ দিল্লির সবুজ সংকেত ক’টি বুথের ভাগ্যে পুনর্নির্বাচন লিখে দেয়।
