আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মেগা ইভেন্টে পুলিশের ‘না’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:-  তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বার্ষিক ইভেন্ট ‘একুশে জুলাই’-এর শহিদ দিবস কি এবার ধর্মতলা থেকে পাততাড়ি গোটাতে চলেছে? কলকাতা পুলিশের সাম্প্রতিক এক বার্তায় সেই সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে উঠেছে। পুলিশি আপত্তির জেরে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর কোনও রাজনৈতিক জনসভা করা যাবে না বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথম ধর্মতলার চেনা মঞ্চ ছাড়া অন্য কোথাও ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হতে পারে ঘাসফুল শিবির।
​মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এবং তার সংলগ্ন এলাকায় আগেকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা (বর্তমানে যা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা) সর্বদা জারি থাকে। এই আইনি কারণ দর্শিয়েই কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট করেছেন, ওই চত্বরে কোনও বড় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’— দুই শিবিরের আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে লালবাজার।

​আইনি ও রাজনৈতিক জটলায় বিদ্ধ ঘাসফুল

​চব্বিশের লোকসভা এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে ভাঙন স্পষ্ট। দলের প্রতীক ও তহবিল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই চলছে দুই শিবিরের। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। এই চরম রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের মধ্যেই ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে পুলিশের এই ‘না’ দুই শিবিরের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

​কেন আবেগ জড়িয়ে এই ধর্মতলায়?

​১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মহাকরণ অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ধর্মতলা। পুলিশি গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ১৩ জন কর্মী। সেই ঘটনার স্মরণেই প্রতি বছর ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েতে ‘শহিদ দিবস’ পালন করে আসছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানটি তৃণমূলের আবেগ এবং শক্তির অন্যতম প্রধান উৎসস্থল। এবার সেই চেনা জমি হাতছাড়া হওয়া রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা।
​বিকল্পের খোঁজে দুই শিবির
​পুলিশের সবুজ সংকেত না মেলায় ইতিমধ্যেই বিকল্প জায়গার খোঁজ শুরু করেছে দুই পক্ষই। তবে স্থান পরিবর্তন নিয়ে এখনই রণে ভঙ্গ দিতে নারাজ নেতৃত্ব।
​কালীঘাট তৃণমূলের অবস্থান: দলের নেত্রী দোলা সেন জানিয়েছেন,
​”আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। আমরা দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে এখানেই ২১ জুলাই পালন করে আসছি। এটা কোনও সাধারণ কর্মসূচি নয়, শহিদ-তর্পণ। মাত্র এক বেলার জন্য ধর্মতলা বন্ধ থাকে। এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথায় করা সম্ভব, তা নিয়ে আমরা দলের অন্দরে আলোচনা করছি।”

​ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান

দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানও একই সুরে আইনি পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য,
​”আমরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনে আমরা পুলিশের কাছে আবারও পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাব।”
​আইনি লড়াই আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত দুই তৃণমূলের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— ধর্মতলা যদি অতীত হয়, তবে শহিদ-তর্পণের জন্য ঘাসফুল শিবিরের নতুন ঠিকানা কোথায় হতে চলেছে? উত্তর মিলবে আগামী দিনগুলোতেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *