ডিএ মামলা: সুপ্রিম কোর্টে বড় ঘোষণা রাজ্যের, ৬ মে পর্যন্ত পিছিয়ে গেল শুনানি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ- রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় তথ্য পেশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বুধবার শীর্ষ আদালতে রাজ্য জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ কমিটির সমস্ত সুপারিশ মানতে তারা দায়বদ্ধ। ইতিমধ্য়েই প্রথম দফায় বকেয়া মেটাতে রাজ্য কোষাগার থেকে ৬,০০০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। রাজ্যের এই হলফনামার পর আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে ৬ মে, ২০২৬। উল্লেখ্য, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে, ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক— উভয় দিক থেকেই এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শুনানির মূল পয়েন্টগুলি:
বকেয়া মেটানোর দাবি: রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে জানান, কর্মীদের তালিকা অনুযায়ী বকেয়া টাকার প্রথম কিস্তি ইতিমধ্যেই প্রদান করা হয়েছে।
কমিটির ভূমিকা: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন কমিটি ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া তদারকি করছে। রাজ্য জানিয়েছে, কেন্দ্রের ধাঁচে তৈরি এই কমিটির সুপারিশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সময় প্রার্থনা: কমিটি তাদের পরবর্তী রিপোর্ট এপ্রিলের শেষভাগে জমা দেবে। তাই রাজ্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছিল, যাতে বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সম্মতি দিয়েছে।
বঞ্চিত সরকারি সংস্থা: সরকারি কর্মীরা টাকা পেলেও, সরকার পোষিত বা সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির কর্মীরা এখনও বকেয়া পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টিও পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্ব পেতে পারে।
ডিএ মামলার টাইমলাইন: এক নজরে
তারিখ ঘটনা
৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, “ডিএ কর্মীদের আইনি অধিকার”। ২৫ শতাংশ বকেয়া দু’দফায় মেটানোর নির্দেশ।
৩১ মার্চ, ২০২৬ প্রথম কিস্তি মেটানোর জন্য আদালত নির্ধারিত শেষ দিন ছিল।
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ রাজ্য আদালতকে জানায় যে ৬,০০০ কোটি টাকা প্রথম দফায় মেটানো হয়েছে।
৬ মে, ২০২৬ পরবর্তী শুনানি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যকে ‘মডেল এমপ্লয়ার’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। রাজ্য সরকার ৬,০০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানালেও, কর্মীদের বড় একটি অংশ এখনও পূর্ণাঙ্গ বকেয়া ও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে অনড়। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির পরবর্তী রিপোর্টই ঠিক করে দেবে বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর রোডম্যাপ কী হবে। আপাতত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ঝুলেই রইল কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মীর ভাগ্য।
