এপ্রিলের শুরুতেই বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনী ইস্তাহার বা সংকল্পপত্র প্রকাশ করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৪ অথবা ৬ এপ্রিল এই ইস্তাহার প্রকাশিত হতে পারে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন। তৃণমূলের ‘দশ প্রতিজ্ঞা’র পাল্টা হিসেবে বিজেপির ইস্তাহারে থাকছে মহিলাদের জন্য আর্থিক সাহায্য বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের বড়সড় প্রতিশ্রুতি। তৃণমূল সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার পর, পাল্টা চাল হিসেবে বিজেপি তাদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে চলেছে। এছাড়াও বেকার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
বেকার যুবক-যুবতী এবং সরকারি কর্মীদের মন জয়ে বিজেপির সংকল্পপত্রে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি। আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ সম্পূর্ণ করা। প্রতি বছর স্কুল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা নেওয়া এবং চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সের সীমায় ৫ বছরের ছাড়। রাজ্যে ৪টি ‘অগ্নিবীর’ নিয়োগ শিবির এবং সেনাবাহিনীতে বিশেষ ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’ গড়ার অঙ্গীকার। বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যে একাধিক ‘শিল্প হাব’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, যেখানে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে সিঙ্গুর। তবে এক্ষেত্রে কৃষকদের সম্মতি নিয়েই জমি অধিগ্রহণের কথা জানানো হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ সমূলে বিনাশ করার কড়া বার্তা থাকবে ইস্তাহারে। পাহাড় ও সাগরকে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিজেপির।
ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ করার প্রতিশ্রুতি। রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম তৈরির পরিকল্পনা। পাহাড়ের জন্য ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’ খোঁজার আশ্বাস। বিজেপির এই সম্ভাব্য ইস্তাহারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর দাবি, “বিজেপির সংকল্পপত্র মানেই মিথ্যে কথার ঝুলি। কাঁটাতারের কাজ কেন্দ্রের হাতে থাকা সত্ত্বেও তারা তা সম্পন্ন করতে পারেনি। ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি।”
