মমতার প্রচার বন্ধের দাবি নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে বিজেপি, পাল্টা তোপ তৃণমূলের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,দিল্লি: লোকসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে চরমে পৌঁছাল সংঘাত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতৃত্ব। সুকান্ত মজুমদার ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু কমিশনের কাছে তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, হারের ভয়েই মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। ময়নাগুড়ির এক নির্বাচনী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
সুকান্ত মজুমদার বলেন,“একজন সিটিং মুখ্যমন্ত্রী বলছেন যে, ভোটের পর বিজেপি ভোটারদের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড লাগাতে হবে যে তাঁরা বিজেপি করেন না। এটি সরাসরি ভোটারদের জীবনহানির হুমকি এবং ভয় দেখানো। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুসারে এটি অপরাধ।” বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশন মাত্র কয়েকদিনের জন্য— এই ধরনের কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষভাবে প্রশাসনের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন এবং ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। এই মর্মে কমিশনের কাছে মোট ৬টি দাবি পেশ করেছে গেরুয়া শিবির।
গত ২৫ মার্চ ময়নাগুড়ির সভা থেকে তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচার চালানোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তাঁর প্রার্থীকে গাছে বেঁধে পেটানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাল্টায় তিনি বলেন, “এসব করতে যেও না। নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে, আমি বিজেপি করি না।”বিজেপির অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমেই ভোট পরবর্তী হিংসার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির এই পদক্ষেপকে পরাজয়ের ভয় হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “মোদী-অমিত শাহকে দিয়েও কাজ হচ্ছে না বুঝে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে নিজেদের হাতের তৈরি কমিশনের কাছে যাচ্ছে বিজেপি। ওরা হেরেই বসে রয়েছে, তাই প্রচার আটকানোর এই মরিয়া চেষ্টা।” ভোটের আবহে এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং নির্বাচন কমিশন আদোও কোনও কড়া পদক্ষেপ করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
