বরুণ বিশ্বাসের হত্যার বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ তাঁর পরিবার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৪টি বছর। কিন্তু আজও বিচার পায়নি পরিবার। ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন চত্বরে দুষ্কৃতীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিলেন প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। আগামীকাল, ৫ জুলাই তাঁর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর তার ঠিক আগের দিনই, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, বরুণ খুনের প্রকৃত বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন তাঁর পরিবার।
আজ, শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন বরুণের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি— এতদিন তদন্তের নামে কেবল প্রহসন হয়েছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে। এবার কলকাতা হাইকোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করে নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করা হোক।
কাঠগড়ায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মাস্টারমাইন্ড গ্রেপ্তারের দাবি
কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের জনপ্রিয় শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় শুরু থেকেই নাম জড়িয়েছিল তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নেতৃত্বেই ১০০ থেকে ১৫০ জন হামলা চালিয়ে বরুণকে খুন করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ তিনিই।
পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান:
-
তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
-
এই ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও, একজন জেলে মারা যান এবং বাকিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
-
প্রভাবশালীদের দাপটে ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় মূল অপরাধীরা অধরাই রয়ে গিয়েছে।
“রাজ্যে পালাবদলের পর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে”
তৃণমূল জমানায় বিচার না পেয়ে হতাশ পরিবার এখন নতুন সরকারের ওপর আস্থা রাখছেন। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে নিজেদের দাবিদাওয়া জানাবেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বরুণ বিশ্বাসের এক পরিবারের সদস্য বলেন—
“আমরা চাই বরুণ বিশ্বাসের মৃত্যুরহস্যের প্রকৃত উদঘাটন হোক। এতদিন তদন্তের নামে প্রহসন হয়েছে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির তত্ত্বাবধানে সিট গঠন করে তদন্ত করা হোক। এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড হলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর নেতৃত্বেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে, তিনিই প্রকৃত দোষী। রাজ্যে পালাবদলের পর মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আমরা ন্যায়বিচার চাইতে এসেছি।”
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই হাইপ্রোফাইল মামলার ফাইল নতুন করে খোলে কি না, এবং মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।
