গ্রেপ্তারির আশঙ্কা? রেজিনগর থানায় হাজিরা দিয়ে বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,মুর্শিদাবাদ: নিজের বিতর্কিত ‘স্যাঁটা’ মন্তব্যের জেরে হওয়া মামলায় শেষ পর্যন্ত থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। আজ, শনিবার নির্দিষ্ট সময়ের ৩ মিনিট আগেই, অর্থাৎ সকাল ১১টা ২৭ মিনিট নাগাদ রেজিনগর থানায় পৌঁছান তিনি। তবে থানায় ঢোকার মুখেই এক চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এই দাপুটে নেতা। হুমায়ুন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি গ্রেপ্তার হলে আরও ১০০-১২০ জন স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হবেন, সেই তালিকা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে।” স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নিজের গ্রেপ্তারির আশঙ্কা করছেন হুমায়ুন?
কী ছিল সেই বিতর্কিত মন্তব্য?
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জুন। রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির একটি জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র উস্কানিমূলক ও ‘স্যাঁটা’ মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এই মন্তব্যের জল গড়ায় বহুদূর। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে কড়া ভাষায় ‘সবক’ শেখানোর হুঁশিয়ারি দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পরেই রেজিনগর ও শক্তিপুর— দুই থানাতেই এজেইউপি নেতার বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের হয়। এর পাশাপাশি শক্তিপুর থানার ওসি-কে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় গতকাল, শুক্রবার শক্তিপুর থানায় তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। তবে আজ শনিবার রেজিনগর থানার তলব এড়াননি তিনি।
ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার ৩ নেতা, রেজিনগরে চরম উত্তেজনা
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পর পুলিশ প্রশাসনও যে চরম সক্রিয়, তা স্পষ্ট। বিতর্কিত মন্তব্য-মামলায় রেজিনগরের ওই সভার মূল ৩ আয়োজক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির ৩ নেতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফলে হুমায়ুন কবীরের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছিল।
আজ সকাল থেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে রেজিনগর থানা এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে:
-
থানার বাইরে ড্রোন: আইনশৃঙ্খলার অবনতি রুখতে রেজিনগর থানার বাইরে এবং সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।
-
দলীয় কর্মীদের জমায়েত: হুমায়ুন কবীর থানায় ঢোকার পর থেকেই থানার অদূরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয়ের সামনে শয়ে শয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা এসে জমায়েত করতে শুরু করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর হুমায়ুন কবীরের মতো নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ হুমায়ুনকে ছেড়ে দেয়, নাকি গ্রেপ্তারির মতো বড় কোনও পদক্ষেপ নেয়— এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
