খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যাচ্ছেন না মোদি, ইরান প্রেসিডেন্টকে ফোনে দিলেন শান্তির বার্তা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি:- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপ্রক্রিয়ায় গতি আনতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহত প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে আমন্ত্রণ পেলেও তেহরানে যাচ্ছেন না মোদি। পরিবর্তে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত।
সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, “পশ্চিম এশিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থায়ী শান্তি স্থাপনের উদ্দেশে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেটার জন্য আমি ওকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।” একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচলের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। মোদি বলেন, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাধীনভাবে জাহাজ চলাচল ভারত ও গোটা বিশ্বের জন্য কতটা জরুরি সেটা আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তেহরান। তবে মোদি নিজে না গিয়ে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মারঘেরিতা এবং বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ আতা হাসনাইনকে নিয়ে দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে ভারত।
কূটনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও ইরানের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে নয়াদিল্লি। এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তেহরানে না যাওয়া এবং ফোনালাপের মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেও আমেরিকা-ইজরায়েল অক্ষের সঙ্গে কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখল ভারত। খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে না গিয়ে প্রতিনিধি পাঠানো এবং প্রেসিডেন্টকে ফোনে শান্তি ও হরমুজ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা — মোদির এই কূটনৈতিক চাল ভারতের ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ নীতিকেই তুলে ধরল। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে দিল্লির এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও বাড়তি বার্তা।
