আজকের দিনেগ্রীন রুম

বাড়বে স্ক্রিন, পরিকাঠামো বাড়াতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন কেন্দ্রের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: ভারতীয় চলচ্চিত্র দুনিয়াকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করতে একগুচ্ছ বড়সড় ও যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করল কেন্দ্র। দেশের সিনেমা হল বা স্ক্রিনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র ব্যবহার— ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক পরিকাঠামো বদলে দিতে এক মাস্টারপ্ল্যান নেওয়া হয়েছে।

সোমবার নয়া দিল্লিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেখানেই চলচ্চিত্র নির্মাণ, বিতরণ এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রসূন যোশীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্ববাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবং এর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন বলিউডের স্বনামধন্য গীতিকার ও লেখক প্রসূন যোশী।

এই কমিটি মূলত যে বিষয়গুলির ওপর জোর দিতে চলেছে:

  • এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: চলচ্চিত্রে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা।

  • বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা: ভারতীয় সিনেমাকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও জনপ্রিয় ও বাণিজ্যিকভাবে সফল করার কৌশল নির্ধারণ।

  • সমস্যা সমাধান: সিনেমা ডিস্ট্রিবিউশন ও মেকিংয়ের ক্ষেত্রে থাকা আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতাগুলি পর্যালোচনা করা।

দেশজুড়ে বাড়বে স্ক্রিন, রাজ্যগুলির জন্য ‘আদর্শ নিয়মাবলী’

বর্তমানে সিনেমা ও থিয়েটার হল পরিচালনার ক্ষেত্রে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম রয়েছে। এই জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে বিশেষ করে ছোট শহর এবং গ্রামাঞ্চলে সিনেমা হলের সংখ্যা বাড়ছে না, বরং বহু ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্র এবার একটি একক ও সহজ ‘আদর্শ নিয়মাবলী’ প্রস্তুত করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে, বিশেষ করে মফস্বল ও গ্রামীণ এলাকায় সিনেমা হলের সংখ্যা এবং পরিকাঠামো বাড়ানো। কেন্দ্রের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই নতুন নিয়মাবলী রাজ্যগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে সিনেমা হলের লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ ও দ্রুত করা যায়।

কেন্দ্র সরকারের এই মেগা পরিকল্পনার ফলে আগামী দিনে ভারতীয় চলচ্চিত্র শুধু যে প্রযুক্তির দিক থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে তাই নয়, বরং ব্যবসার পরিধিও অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছেন সিনেমা বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *