নুসা-দিয়াল্লোর ‘সেরা’ গোল বৃথা, হালান্ডের ট্যাপ-ইনে ২৮ বছর পর নক-আউটে নরওয়ে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- টুর্নামেন্টের দুই সেরা গোলও জেতাতে পারল না আইভরি কোস্টকে। গোটা ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা আর্লিং হালান্ডই ৮৬ মিনিটে সহজতম গোলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন। ২-১ জিতে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে নরওয়ে। সামনে এবার ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল আইভরি কোস্টের। কিন্তু ৩৯ মিনিটে খেলার গতির বিপরীতে এগিয়ে যায় নরওয়ে। বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেইমার-সুলভ ইনস্টেপে চোখধাঁধানো গোল করেন বছর একুশের উইঙ্গার অ্যান্তনিও নুসা। নেইমারের ভক্ত নুসা এদিন হয়ে গেলেন বিশ্বকাপে নরওয়ের তরুণতম গোলদাতা।
গোল খেয়েও চাপ বাড়ায় আইভরি কোস্ট। ৪০ মিনিটেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল নরওয়ের। কিন্তু ৬ গজ দূর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে সেই সুযোগ নষ্ট করেন খোদ হালান্ড। অনেকেই ভেবেছিলেন, আজ বোধহয় তাঁর দিন নয়।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় আইভরি কোস্ট। ৭৪ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডানপ্রান্ত থেকে একক দক্ষতায় তিন ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে অবিশ্বাস্য গোল করে দলকে সমতায় ফেরান আমাদ দিয়াল্লো। গ্যালারি তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছে।
কিন্তু সব হিসেব ওলটপালট হয়ে গেল ৮৬ মিনিটে। গোটা ম্যাচে বিপক্ষ রক্ষণে ত্রাস ছড়াতে না পারা হালান্ডই হয়ে উঠলেন ত্রাতা। সতীর্থের বাড়ানো বলে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছে ফাঁকা নেটে বল ঠেলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির ‘গোলদস্যু’। নুসা আর দিয়াল্লোর দুটো গোল টুর্নামেন্ট সেরার দৌড়ে থাকবে, কিন্তু শেষ হাসি হালান্ডেরই।
২৮ বছরের খরা কাটাল নরওয়ে। ১৯৯৮ সালে শেষবার নক-আউট খেলেছিল তারা, সেবার দলে ছিলেন হালান্ডের বাবা আলফ ইঙ্গে হালান্ড। বাবাদের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করলেন ছেলে। প্রি-কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। মঙ্গলবার মনের মতো ফুটবল খেলতে না পারলেও নরওয়ের হাতে আছেন আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা সেই স্ট্রাইকারই এখন ‘ভাইকিং’দের সবচেয়ে বড় ভরসা।
