মমতা-সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রতর ঘরে ‘অভিমানী’ চন্দ্রিমা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল এবার আরও চওড়া হলো। রাজ্য সভাপতি-সহ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। শনিবার দুপুরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠান তিনি। শুধু দলীয় পদই নয়, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি দায়িত্ব থেকেও নিজেকে অব্যাহতি নিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোদ্ধার এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়লেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পদত্যাগের পরেই এদিন দুপুরে বিধানসভায় হাজির হন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান সন্দীপন-সহ তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়করা। চন্দ্রিমাকে ‘সিনিয়র নেত্রী’ বলে সম্মান জানান তাঁরা। এরপর বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে ‘নব তৃণমূল’ অর্থাৎ বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের বিধায়কদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন চন্দ্রিমা। এই বৈঠকের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে।
কেন এই আচমকা ইস্তফা?
মেট্রোপলিটানের ভবন দখল নিয়ে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র মধ্যে চলা দড়ি টানাটানির মাঝেই চন্দ্রিমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই ‘অভিমানেই’ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চন্দ্রিমা।
ইস্তফা প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন: “শুক্রবার মেট্রোপলিটানের ভবনে বেশ কয়েকজন বিধায়ক গিয়েছিলেন। আমি যতক্ষণ ছিলাম, তাঁরা আমার সঙ্গে কথা বলেননি। আমি বাড়ি চলে আসার পর মমতাদি ফোন করতে বলেন। ফোন করতেই তিনি প্রশ্ন করেন— ‘তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে?’ আমার এত দুঃখ হয়েছে! আমি বললাম, দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন? আমার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বেদনাহত মন নিয়ে আমি সব ছেড়ে দিলাম।”
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কালীঘাটে আর ফিরে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না।
“কালের যাত্রায় সবাইকেই পা মেলাতে হয়”
বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চন্দ্রিমাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুটা রহস্য বজায় রেখেই বলেন, “কালের যাত্রায় সবাইকেই পা মেলাতে হয়।” তবে দলবদলের বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট না করে বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় তিনি জানান, কিছু নথি জমা দিতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। চন্দ্রিমার বক্তব্য: “তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া বা না দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই। বিধানসভায় কোনও কাজ করতে এলে নিশ্চয়ই আমি সরকার পক্ষের ঘরে গিয়ে বসব না। বিরোধী পক্ষের ঘরেই বসতে হবে।”
চন্দ্রিমাকে তোপ কুণাল ঘোষের
চন্দ্রিমার এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন: “যদি কেউ মনে করেন তিনি বিশ্বাসঘাতক শিবিরে নাম লেখাবেন, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। মানুষের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন চন্দ্রিমা সব থেকে বেশি দপ্তর পেয়েছেন। তখন অভিমান হয়নি? এখন ছাড়লেন কেন?”
মেট্রোপলিটান ভবনের দখলকে কেন্দ্র করে ‘কালীঘাট’ বনাম ‘নব তৃণমূল’ শিবিরের লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয় এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কি না— এখন সেটাই দেখার।
