চার দশকের লড়াই শেষে মন্ত্রীর চেয়ারে বীরভূমের দুধকুমার মণ্ডল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আশির দশক থেকে আরএসএস-বিজেপির পতাকা বয়ে আনা দুধকুমার মণ্ডলের রাজনৈতিক জীবনে এল বড় প্রাপ্তি। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে ময়ূরেশ্বর কেন্দ্র থেকে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হয়েই সোজা মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন বীরভূমের এই প্রবীণ নেতা। সোমবার লোকভবনে শপথ নেওয়ার পর জানালেন, ‘যে দুর্নীতি বাংলায় দানা বেঁধেছিল, তা বিজেপি সরকারে আসার পর পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।’
দুধকুমার মণ্ডলের যাত্রা শুরু রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস সংগঠন থেকে। আশির দশকের শুরুতেই শাখায় যুক্ত হয়ে গেরুয়া আদর্শে দীক্ষিত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে প্রথমবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে নামেন। ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথমবারেই জয়লাভ করেন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৯৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফের জয়ী হয়ে ময়ূরেশ্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচিত হন তিনি। পরে আবার পঞ্চায়েত সদস্য হন এবং পরবর্তীতে ফের প্রধানের দায়িত্বও সামলান।শুধু গ্রাম পঞ্চায়েতেই নয়, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ স্তরেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তৃণমূলের দাপটের সময়েও বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামে বিজেপির সংগঠন ধরে রেখেছিলেন দুধকুমার। বুথ স্তরে কর্মীদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক, আরএসএস-এর আদর্শে নতুন প্রজন্মকে দলে টানা—এসবই ছিল তাঁর রুটিন কাজ। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর ২০১১ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন। ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে সেবার সিপিএম প্রার্থী অশোক রায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে সেই পরাজয় তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ২০১৫ সালে তিনি বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জেলা সভাপতি হিসেবে ২০১৬ বিধানসভা ও ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটে বীরভূমে বিজেপির ভোট শতাংশ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬ সালে নিজে রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেবার তৃণমূলের হেভিওয়েট আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন।২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দল তাঁকে বীরভূম লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে। মোদী-ঝড়েও সেবার তৃণমূলের শতাব্দী রায়ের কাছে হার মানতে হয়। কিন্তু লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পরেও ময়ূরেশ্বর-মল্লারপুর-রামপুরহাট বেল্টে সংগঠন ছাড়েননি দুধকুমার। করোনা কালে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়ানো, আমফান-ইয়াসের ত্রাণ বিলি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মানুষের দরজায় পৌঁছে দেওয়া—সবেতেই সামনে থেকেছেন।অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ময়ূরেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থীকে ২৭ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। প্রথমবার বিধানসভায় পা রেখেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পান। বীরভূমের আদিবাসী-তপশিলি অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়ন ও দলের পুরনো কর্মীদের লড়াইকে সম্মান জানাতেই তাঁকে মন্ত্রী করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
সোমবার লোকভবনে শপথের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দুধকুমার মণ্ডল বলেন, ‘রাজ্য সরকার যেভাবে যা করতে বলবে, সেই কাজ করে যাব। যে দুর্নীতি বাংলায় দানা বেঁধেছিল, তা আজ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে বিজেপি সরকারে আসার পর। স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। এবার গ্রাম-শহরে ব্যাপক উন্নতি হবে। তবে এই সুদিন যাঁরা দেখে যেতে পারলেন না, যাঁদের জন্য আজ বিজেপির এই সাফল্য, তাঁদের কথা মনে পড়ছে।’
