আজকের দিনেতিলোত্তমা

হরিদেবপুর থেকে লালবাজারের জালে বাংলাদেশি ‘ডলার’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতাঃ  মেডিক‌্যাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বিলাসবহুল আইফোন এবং দামি ল্যাপটপ পাচারের এক বড়সড় সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস করল লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা। হরিদেবপুর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে চিকিৎসার নাটক করলেও, ধৃত ব্যক্তির আসল উদ্দেশ্য ছিল এ শহর থেকে চোরাই মোবাইল বাংলাদেশে পাচার করা। বউবাজার থানার একটি চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই আন্তর্জাতিক চোরাই চক্রের চাঁই— বাংলাদেশের বাসিন্দা সৈয়দ মহম্মদ সালাউদ্দিন ওরফে ‘ডলার’।

 চিকিৎসার নামে জালিয়াতি

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ‘ডলার’-এর আসল নাম সৈয়দ মহম্মদ সালাউদ্দিন। বাংলাদেশের ঢাকার মামুদপুরের বাসিন্দা সে। নিজের দেশে সে নিজেকে আমদানি-রফতানি ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত। কলকাতায় আসার জন্য তার পাসপোর্ট বা ভিসায় কোনও জালিয়াতি না থাকলেও, সে ব্যবহার করত ওপার বাংলার চিকিৎসকদের ভুয়া প্রেসক্রিপশন। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সালাউদ্দিনের হৃদযন্ত্র বা কিডনির কোনও রোগই নেই। স্রেফ পুলিশি নজরদারি এড়াতে এবং সহজে ভিসা পেতেই সে নিজেকে অসুস্থ বলে দাবি করত। কলকাতায় এসে দালালের মাধ্যমে দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুর অঞ্চলে কিছুদিনের জন্য বাড়ি ভাড়াও নেয় সে।

 কীভাবে চলত এই আন্তর্জাতিক পাচারচক্র?

তদন্তে জানা গিয়েছে, কলকাতায় পা রাখার পর থেকেই সালাউদ্দিন শহরের একাধিক ল্যাপটপ ও মোবাইল চোর এবং চোরাই মালের লোকাল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াত। তার মূল টার্গেট ছিল নামী ব্র্যান্ডের আইফোন এবং দামি অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট। চোরদের কাছ থেকে অত্যন্ত কম দামে সেই মোবাইল ও ল্যাপটপ কিনে সে হরিদেবপুরের ভাড়া বাড়িতে মজুত করত। এরপর অন্যান্য সাধারণ কেনাকাটার সামগ্রীর আড়ালে লুকিয়ে সেইসব চোরাই গ্যাজেট সীমান্ত পার করে চলে যেত বাংলাদেশে। ঢাকায় পৌঁছে চোরাই মোবাইলের সিন্ডিকেটের কাছে চড়া দামে সেগুলি বিক্রি করে মোটা টাকা মুনাফা কামাত এই ‘ডলার’।

 পকেটমারি থেকে লালবাজারের জাল

সম্প্রতি মধ্য কলকাতার সেন্ট্রাল অ‌্যাভিনিউ দিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবকের পকেট থেকে একটি আইফোনসহ দুটি দামি মোবাইল চুরি যায়। ওই যুবক বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরই তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রথমে পুলিশ গ্রেপ্তার করে মহম্মদ আরবাজ ওরফে ভিকি নামে এক দুষ্কৃতীকে।

ধৃত ভিকিকে জেরা করতেই উঠে আসে নিউ মার্কেট এলাকার এক চোরাই মালের এজেন্টের নাম। সেই সূত্র ধরেই নিউ মার্কেট এলাকায় বিশেষ ফাঁদ পাতেন গোয়েন্দারা। চোরাই মোবাইলের ডিল করতে এসে পুলিশের হাতে নাতে ধরা পড়ে যায় বাংলাদেশি পাচারকারী সালাউদ্দিন ওরফে ডলার।

 তল্লাশিতে উদ্ধার একাধিক মোবাইল, চলছে জেরা

ডলার ধরা পড়ার পরেই হরিদেবপুরে তার ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক চোরাই মোবাইল ও ল্যাপটপ। পুলিশ ও আদালত সূত্রে খবর, এই আন্তর্জাতিক চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং কলকাতার আর কোন কোন এজেন্ট বা চোর এই ডলারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল, তা জানতে ধৃতকে ম্যারাথন জেরা করছে লালবাজারের গোয়েন্দারা। ওপার বাংলার এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *