আজকের দিনেতিলোত্তমা

আর জি কর হাসপাতালের সিআইএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল ও লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: আর জি কর হাসপাতাল এবং নারী নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চলা সংবেদনশীল পরিস্থিতির মাঝেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। আর জি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর এক জওয়ানের বিরুদ্ধে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে লাগাতার ধর্ষণ ও আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠল। ঘটনার প্রেক্ষিতে নারায়ণপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে।

মায়ের চিকিৎসা সূত্রে আলাপ, পরে ‘প্রেমের’ ফাঁদ
​পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ। তিনি আর জি কর হাসপাতালেই কর্মরত ছিলেন। অভিযোগকারিণী তরুণী নিউটাউনের বাসিন্দা। সম্প্রতি আর জি কর হাসপাতালে ওই তরুণীর মায়ের চিকিৎসা চলছিল। সেই সূত্রেই জওয়ান পারুল আহমেদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তরুণীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের এক প্রথম সারির নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান হওয়ায় তিনি কোনো ‘ভয়’ বা সন্দেহ বোধ করেননি। পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

​হোটেলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেল
​অভিযোগ, সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরেই নিজের আসল রূপ দেখায় পারুল। চিনার পার্কের একটি হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীর ওপর প্রথমবার পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের সময় তরুণীর আপত্তিকর ভিডিও তুলে রাখে ওই জওয়ান। এরপর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং পরিবারকে জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে লাগাতার ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে। সেই আপত্তিকর ভিডিওর ভয় দেখিয়ে তরুণীকে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

গ্রেপ্তার জওয়ান, ফরেনসিক তদন্তে পুলিশ
​লাগাতার এই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তরুণী তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরিবারের পরামর্শে নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর তৎপরতার সঙ্গে পদক্ষেপ করে গত ৯ জুন পুলিশ অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ান পারুল আহমেদকে গ্রেপ্তার করে।
​ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে চিনার পার্ক সংলগ্ন ওই হোটেলের ঘরের বিছানার চাদর এবং অভিযুক্ত জওয়ানের ইউনিফর্ম বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, এই নজিরবিহীন ঘটনার বিষয়ে সিআইএসএফ আধিকারিকদেরও চিঠি মারফত সরকারিভাবে অবগত করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *