শান্তির পথে এক ধাপ? ইরানে হামলা স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে ১০ দিন করলেন ট্রাম্প
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাউদাউ আগুনের মাঝে কি তবে শান্তির হালকা হাওয়া বইতে শুরু করল? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় সেই আশাই জাগছে বিশ্ববাসীর মনে। গত সোমবার ঘোষিত ৫ দিনের সাময়িক সংঘর্ষ বিরতির মেয়াদ শুক্রবার বাড়িয়ে ১০ দিন করলেন ট্রাম্প। এর ফলে আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৬ (সোমবার) রাত ৮টা (ইরানি সময়) পর্যন্ত ইরানে কোনো হামলা চালাবে না মার্কিন সেনা।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লেখেন,“ইরান সরকারের অনুরোধ পেয়ে আমি জানাচ্ছি যে, তাদের জ্বালানিকেন্দ্রে হামলা আরও ৫ দিন, অর্থাৎ মোট ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখছি। আগামী সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই বিরতি কার্যকর থাকবে।” পাশাপাশি তিনি সংবাদমাধ্যমের একাংশকে ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানোর জন্য আক্রমণ করে জানান যে, পর্দার আড়ালে শান্তি প্রক্রিয়া সঠিক পথেই এগোচ্ছে। মঙ্গলবারই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরান তাঁকে একটি ‘বিরাট উপহার’ পাঠিয়েছে এবং তারা যুদ্ধবিরতির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমেরিকা ইতিমধ্যেই আলোচনার টেবিলে ১৫ দফা শর্ত পেশ করেছে। সূত্রের খবর, পালটা হিসেবে ইরানও নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী ৫ বছরের জন্য ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা হ্রাস করার ইঙ্গিতও মিলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক শহর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইজরায়েলে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্য়েই ২ হাজার ছাড়িয়েছে। ভারত, রাশিয়া, চিন ও স্পেনের মতো দেশগুলো বারবার শান্তিপ্রস্তাব দিলেও দুই পক্ষই এতদিন অনড় ছিল। ট্রাম্পের এই ১০ দিনের ‘হামলা বিরতি’ কি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান আনবে, নাকি এটি কেবল ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা—এখন সেটাই দেখার।
