মুর্শিদাবাদের রেল যোগাযোগে বড় সুখবর! বাড়ল ৩ জোড়া মেমু ট্রেনের পরিষেবা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- মুর্শিদাবাদ জেলার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নতি ঘটাল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের যে চাহিদা ও ভোগান্তি ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে এবার কাশিমবাজার পর্যন্ত সীমিত থাকা মেমু ট্রেন পরিষেবা সম্প্রসারিত করে সরাসরি বহরমপুর কোর্ট স্টেশন পর্যন্ত চালু করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে জেলার হাজার হাজার যাত্রীর দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরাসরি সংযোগে যাত্রীদের বড় স্বস্তি
আগে আজিমগঞ্জ থেকে চলা তিন জোড়া মেমু ট্রেন কাশিমবাজার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে বহরমপুর কোর্ট বা আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় পৌঁছাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন সরাসরি আজিমগঞ্জ থেকে বহরমপুর কোর্ট পর্যন্ত রেল সংযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের সময় ও খরচ কমবে।বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী, আদালত-সংক্রান্ত কাজে আসা মানুষ, ছাত্রছাত্রী এবং ব্যবসায়ীরা এই সুবিধার সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।
সম্প্রসারিত মেমু পরিষেবা:
রেল কর্তৃপক্ষ তিন জোড়া মেমু ট্রেনের পরিষেবা বহরমপুর কোর্ট পর্যন্ত বাড়িয়েছে
আজিমগঞ্জ–বহরমপুর কোর্ট মেমু (৬৩০৪২/৬৩০৪১)
আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছাবে : সকাল ৬:৫৫ – সকাল ৭:২০
ফেরার ট্রেন: সকাল ৭:৩৫ (বহরমপুর কোর্ট)- সকাল ৮:০২ (আজিমগঞ্জ)
আজিমগঞ্জ–বহরমপুর কোর্ট মেমু (৬৩০৪৬/৬৩০৪৫)
আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছাবে : সন্ধ্যা ৭:৫০ – সন্ধ্যা ৮:১৫
ফেরার ট্রেন: রাত ৮:৫৩(বহরমপুর কোর্ট)- রাত ৯:২০(আজিমগঞ্জ)
আজিমগঞ্জ–বহরমপুর কোর্ট মেমু (৬৩০৫৮/৬৩০৫৭)
আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে বহরমপুর কোর্ট পৌঁছাবে : রাত ৯:৩০ – রাত ৯:৫৭
ফেরার ট্রেন: রাত ১০:১২ (বহরমপুর কোর্ট) – রাত ১০:৩৯(আজিমগঞ্জ)
এই নতুন সময়সূচি অনুযায়ী দিনে মোট ছয়টি যাত্রায় বহরমপুর কোর্ট পর্যন্ত সরাসরি পরিষেবা মিলছে, যা যাত্রী চলাচলের চাপ অনেকটাই কমাবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?
এই রুট সম্প্রসারণ শুধুমাত্র একটি সময়সূচির পরিবর্তন নয়, বরং মুর্শিদাবাদের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি বাস্তব পদক্ষেপ।
প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ: বহরমপুর কোর্ট জেলা প্রশাসন ও আদালত ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সরাসরি ট্রেন সংযোগ থাকায় সরকারি কাজ ও আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
দৈনন্দিন যাত্রীদের সময় সাশ্রয়: আগে কাশিমবাজার থেকে অতিরিক্ত যানবাহন নিতে হতো। এখন সেই অতিরিক্ত ধাপ বাদ পড়ায় যাত্রার সময় কমবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা: বহরমপুর ও আশপাশে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত আরও আরামদায়ক হবে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব: যাতায়াত সহজ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়বে।
রেল কর্তৃপক্ষের বার্তা
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার জানিয়েছেন, যাত্রীদের দীর্ঘদিনের চাহিদা এবং বাস্তব প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে পূর্ব অঞ্চলের রেল পরিষেবা আরও কার্যকর ও আধুনিক হবে।রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নতুন সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা পরিকল্পনা করার অনুরোধও জানিয়েছে।
