আজকের দিনেতিলোত্তমা

শহরবাসীর অনীহা কাটাতে মরিয়া কমিশন! কলকাতায় ৯০ শতাংশ ভোটদানের লক্ষ্যমাত্রা নিলেন সিইও

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: পঞ্চায়েত বা গ্রামীণ এলাকায় ভোটের লম্বা লাইন দেখা গেলেও, তিলোত্তমার বুথগুলিতে বারবারই ধরা পড়ে ভিন্ন ছবি। শহরের মানুষের ভোটদান নিয়ে এই অনীহা কাটাতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক  মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবারের লক্ষ্য খাস কলকাতায় ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

সিইও জানান, শুধু গ্রাম নয়, কলকাতাই এবার কমিশনের মূল লক্ষ্য। শহরবাসীকে বুথমুখী করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে,কলকাতায় ভোটের হার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। বয়স্ক এবং অসুস্থ ভোটাররা যাতে অনায়াসে বুথে পৌঁছাতে পারেন, তার জন্য বিভিন্ন অ্যালোকেশন বা অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলছে কমিশন। ভোটাররা যাতে কোনো ভয় ছাড়াই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গ্রামে-গঞ্জে এবং শহরে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা বা যেকোনো বড় শহরেই ভোটের হার কম হওয়ার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক ও মানসিক কারণ রয়েছে, মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এক ধরণের অনীহা কাজ করে। অনেকে ছুটির দিনটিকে ভোট দেওয়ার বদলে নিছক অবকাশ হিসেবে ব্যবহার করেন। কর্মসূত্রে বহু মানুষ ভিন রাজ্যে থাকায় ভোট দিতে ফিরতে পারেন না। আবার অনেকের ভোটার কার্ড গ্রামের ঠিকানায় থাকায় শহরে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। ভোটারদের একাংশ মনে করেন একটি ভোটে বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবে না, তাই তাঁরা ঘরেই থাকা পছন্দ করেন। বুথের পরিবেশ বা বিক্ষিপ্ত অশান্তির আশঙ্কায় অনেক সাধারণ মানুষ বাইরে বের হতে দ্বিধাবোধ করেন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল আশাবাদী যে, এবার চিত্রটা বদলাবে। তিনি বলেন, “যত বেশি মানুষ ভোট দেবেন, গণতন্ত্র তত শক্তিশালী হবে। আমরা আশা করব, এবার কলকাতার মানুষ রেকর্ড সংখ্যায় বুথে যাবেন।” ভোটার তালিকা সংশোধনের পর এবার খাস কলকাতায় ভোটের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী করাটাই কমিশনের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *