২০২৫-এর পুনরাবৃত্তি, পুরী রথযাত্রায় পদপিষ্ট ১২০, মৃত ১
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উড়িষ্যা:- রথযাত্রার পুণ্যলগ্নে মহাপ্রভুর লীলাক্ষেত্র পুরীতে এবারও উপচে পড়া ভিড়। দেশ-বিদেশের লাখো লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে গমগম করছে চারদিক। তবে প্রথা মেনে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে রথে তোলার সময়ে (পাহন্ডি বিজয়ের সময়) নীলমাধবকে একবার সচক্ষে দেখার হুড়োহুড়িতে ঘটে গেল বিপত্তি। অতিরিক্ত গরম এবং ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩৩ জন পুণ্যার্থী। সূত্রের খবর হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়েছেন ১২০ জন পুণ্যার্থী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে মৃত্যু হয়েছে ১জনের।
প্রশাসনের তৎপরতায় তড়িঘড়ি তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ওড়িশা প্রশাসন।
প্রবল গরম ও ভিড়ের চাপেই বিপত্তি
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শ্রীমন্দির চত্বরে ছিল তিল ধারণের জায়গা নেই। দুপুরের দিকে যখন তিন দেবদেবীকে রথে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই ভক্তদের মধ্যে রথের রশি ছোঁয়া এবং জগন্নাথ দর্শনের তীব্র ব্যাকুলতায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।
-
অসুস্থতার কারণ: ওড়িশার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের অধিকাংশেরই অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্বাসকষ্ট, ডিহাইড্রেশন এবং অতিরিক্ত ক্লান্তিজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
-
চিকিৎসা: অসুস্থদের উদ্ধার করে পুরী জেলা হাসপাতালসহ একাধিক স্থানীয় মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বেশ কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, বাকিদের এখনও কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঢাল হলো ‘ইভাকুয়েশন করিডর’, এড়ানো গেল বড় বিপর্যয়
রথযাত্রায় পদপিষ্ট হওয়ার মতো অতীতে ঘটে যাওয়া নানা অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগে থেকেই আঁটোসাঁটো কোমর বেঁধেছিল ওড়িশা প্রশাসন। মন্দির চত্বর জুড়ে মোতায়েন ছিল হাজার হাজার পুলিশকর্মী, ওডিআরএএফ বা বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং দমকল বাহিনী।
জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য আগে থেকেই তৈরি রাখা হয়েছিল বিশেষ ‘ইভাকুয়েশন করিডর’ (উদ্ধারপথ)। এই বিশেষ সড়কটি খালি রাখার ফলেই অসুস্থ পুণ্যার্থীদের অতি দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় কোনও বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছে পুরী প্রশাসন।
শান্ত থাকার আবেদন প্রশাসনের
শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে তাঁদের সুসজ্জিত রথে চাপিয়ে মাসির বাড়ি অর্থাৎ গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার এই যাত্রাকে ঘিরে গোটা পুরী ধাম এখন ভক্তিতে আত্মহারা। প্রশাসনের তরফে তীর্থযাত্রীদের শান্ত ও ধৈর্য বজায় রেখে নির্ধারিত পথ ব্যবহার করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সেই সাথে পুলিশের তরফ থেকে ক্রমাগত মাইকিং করে বলা হচ্ছে, কেউ সামান্য অসুস্থ বোধ করলেই যেন তড়িঘড়ি নিকটবর্তী মেডিকেল ক্যাম্পে যোগাযোগ করেন।
