Siliguri Town Station : রবি-নেতাজি-গান্ধীজির স্মৃতি ফেরাতে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনে সংস্কার, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, শিলিগুড়ি :- ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের সংস্কার শুরু করল রেল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধীর পা পড়েছিল যে স্টেশনে, সংস্কারের অভাবে ভগ্নদশায় পড়ে থাকা সেই হেরিটেজ স্টেশনকে আগের চেহারায় ফেরাতে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হওয়ায় খুশি স্থানীয় মানুষ ও ইতিহাসপ্রেমীরা।
১৮৮০ সালে তৈরি শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মহান ব্যক্তিরা এই স্টেশনে পদার্পণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনটির অবস্থা প্রায় ভগ্নপ্রায় হয়ে পড়ে।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই স্মৃতি সমৃদ্ধ এই স্টেশন সংস্কারের কাজ শুরু করেছে রেল। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহারের ডিআরএম বীরেন্দ্রকুমার নাড়া জানিয়েছেন, হেরিটেজ স্টেশনটি আগের চেহারায় ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণের জন্য প্রায় তিন কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। রেল আধিকারিকদের দাবি, খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করে ফের পুরনো রূপ ফিরিয়ে আনা হবে।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় অনেক কিছুই হারিয়ে গেলেও হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে খুশি রেলপ্রেমী ও ইতিহাস অনুরাগীরা। স্থানীয়দের আশা, সংস্কারের পর একাধিক ট্রেন ফের এই স্টেশনে স্টপ দেবে। তাতে যাতায়াতে সুবিধা হবে এবং এলাকার ছবিও বদলে যাবে।
রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি টাউন পর্যন্ত ডাবল লাইনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এই লাইন হলে স্টেশনটির বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। আটকে থাকা একাধিক রেল প্রকল্প নিয়ে চর্চার পর কাজে গতি এসেছে। কাজ ত্বরান্বিত করতে রাজ্যের তরফে বিশেষ টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হওয়া সংস্কার কাজ শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনকে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দেবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। ঐতিহ্য ও স্মৃতি বিজড়িত এই স্টেশন শুধু পুরনো রূপই ফিরে পাবে না, ডাবল লাইন চালু হলে বাণিজ্যিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
