মাঝপথে থমকে যাবে গগনযান? বিজ্ঞানীদের গণইস্তফা ইসরোতে !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ব্যাঙ্গালুরু ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো -তে হঠাৎই বিজ্ঞানীদের চাকরি ছাড়ার হিড়িক। অল্প কিছুদিনের মধ্যে প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানী স্বেচ্ছাবসর নেওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই গণইস্তফার জেরে যাতে ভারতের স্বপ্নের ‘গগনযান’ সহ অন্যান্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মিশন আটকে না যায়, তার জন্য এবার তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ নিল মোদি সরকার।
গত ১৪ই জুলাই কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগের তরফে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছাবসর সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় বদল আনা হয়েছে।
ডিরেক্টরদের ক্ষমতা ছাঁটাই, সিদ্ধান্ত নেবে সরাসরি কেন্দ্র
এতদিন পর্যন্ত ইসরোর বিভিন্ন সেন্টারের ডিরেক্টরদের হাতেই বিজ্ঞানীদের ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসর গ্রহণ করার চূড়ান্ত ক্ষমতা ছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় বিজ্ঞানীদের সেই ইস্তফা অনায়াসে মঞ্জুর করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে ডিরেক্টরদের থেকে।
-
নতুন নিয়ম: এবার থেকে ইসরোর কোনও বিজ্ঞানীর ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসর গ্রহণ করার বিষয়টি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে কেন্দ্রীয় মহাকাশ বিভাগ ।
-
গগনযানে জোর: গগনযান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মিশনের সাথে যুক্ত ‘গ্রুপ-এ’ পর্যায়ের বিজ্ঞানী এবং কারিগরি কর্মীদের ঢালাও ইস্তফা বা স্বেচ্ছাবসর আর কোনওভাবেই সহজে মঞ্জুর করা হবে না।
-
জাতীয় স্বার্থে আঘাত: কেন্দ্রের সাফ বক্তব্য, গুরুত্বপূর্ণ মিশনের মাঝপথে এই ধরনের লাগামছাড়া ইস্তফা ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং সামগ্রিকভাবে জাতীয় স্বার্থকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
নিশানায় মূলত কোন কোন সেন্টার?
কেন্দ্রের এই বিশেষ নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার এবং বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার -এ পাঠানো হয়েছে। কারণ, এই দুটি সেন্টার থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিজ্ঞানী কাজ ছেড়েছেন। সম্প্রতি ইসরো ছেড়ে যাওয়া বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ভিএসএসসি -র প্রবীণ বিজ্ঞানী ভিক্টর জোসেফ টি। তিনি ভারতের অন্যতম শক্তিশালী রকেট ‘জিএসএলভি মার্ক ৩’ প্রকল্পের ডিরেক্টর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
এছাড়াও এই কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার , লিকুইড প্রপালশন সিস্টেমস সেন্টার , স্পেস অ্যাপ্লিকেশনস সেন্টার এবং ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার -সহ ইসরোর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে।
হঠাৎ কেন ইসরো ছাড়ছেন বিজ্ঞানীরা?
মহাকাশ গবেষণা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে স্পেস সেক্টরের দরজা বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য খুলে যাওয়ার পর থেকেই ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। ১. বেসরকারি সংস্থার লোভনীয় অফার: দেশের একাধিক নামী বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এখন ইসরোর অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের বিপুল অঙ্কের বেতন, উচ্চপদ এবং কাজের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীনতার অফার দিচ্ছে।
২. বেশি সুযোগ-সুবিধা: সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়িয়ে অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা মেলায় অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীরা সরকারি চাকরি ছেড়ে বেসরকারি সংস্থায় যোগ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন।
আর এই ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচার রুখতেই এবার সরাসরি নিয়মের গেরোয় বিজ্ঞানীদের বাঁধতে চাইছে কেন্দ্র।
