রাজ্যে পালাবদল হতেই দুর্গাপুর পুরসভা থেকে উধাও গুরুত্বপূর্ণ ফাইল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ৪ ই মে সোমবার দুপুরে ১২ রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগ থেকে ১৪টি ফাইল বের করে একটি গাড়িতে করে তা পাচার করা হয়েছে, বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার কর্মীদের নিয়ে পুরসভায় আসেন বিজেপির দুই জয়ী প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই ও চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। পাচার হওয়া ফাইল উদ্ধারের পাশাপাশি আর কোনও ফাইল যাতে পুরসভা থেকে বাইরে না–যায় ও বাইরে থেকে কোনও ফাইল পুরসভার ভিতরে না–আসে, সেই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে পুর কমিশনার আবুল কালাম আজ়াদ ইসলামকে।
গেরুয়া শিবিরের দুই বিধায়ক কমিশনারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ করেন । তাঁদের দাবি, কমিশনার যে বাংলোতে থাকেন, তা পুরসভার সম্পত্তি নয়। তা হলে কী ভাবে ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করে তার সংস্কার হলো!বিজেপির দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে পুর কমিশনার জানান , ‘বিজেপির তরফে এই অভিযোগের পরে কর্মীদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পারি, বিল্ডিং প্লানিং বিভাগ থেকে ফাইলগুলি বের করে নেওয়া হয়েছে। যদি তা সত্যি হয়, তা হলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের বাংলোয় থাকি। তার সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। স্টিল প্লান্ট কর্তৃপক্ষ কবে সেই কাজ করবে, তার ঠিক নেই। তাই পুরসভার চেয়ারপার্সনের অনুমতি নিয়ে বাংলোর সংস্কার করা হয়েছে।’ সূত্রের খবর, ১৪টি বহুতলের প্ল্যান অবৈধ ভাবে পাস করানো হয়েছিল। সেই আবাসনগুলি তৈরির ছাড়পত্র অনলাইনের পরিবর্তে অফলাইনে করা হয়। তার জন্য পুরসভার এক আধিকারিক–সহ তৎকালীন ডেপুটি মেয়র ওই ফাইলে সই করেননি। পরবর্তী সময়ে তদন্তে ধরা পড়লে শাস্তি হতে পরা, তা অনুমান করে তাঁরা সই করেননি।
তৎকালীন ডেপুটি মেয়র অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘গরমিল আছে, তা জানার পরে আমি ১৪টি আবাসন তৈরির অনুমতিপত্রে সই করিনি।’ পরবর্তী সময়ে ফাইলগুলি কলকাতায় নিয়ে গিয়ে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৪টি বহতলের মধ্যে পাঁচ–ছ’টি আবাসনে কাজ চলছে। অভিযোগ, অনুমতি দেওয়ার জন্য কয়েক লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। অভিযোগের আঙুল ওঠে বিল্ডিং প্ল্যানিং বিভাগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। পরে ওই কর্মীকে ওই বিভাগ থেকে সরিয়ে ক্যাশ বিভাগে বদলি করা হয়।
বিধানসভার ফলাফলের দিন মানুষের রায় স্পষ্ট হওয়ার পরেই দেখা গিয়েছিল নবান্ন সহ রাজ্যের সরকারি দপ্তর গুলিতে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছিল , উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো যাতে অন্যত্র যাতে না যায় । এরই মধ্যে রাজ্যে দুর্গাপুর পুরসভার ফাইল লোপাটের ঘটনা প্রকাশ্যে এলো ।
