ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরেই হিংসার রাজনীতি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও বাংলায় শান্তি ফেরেনি। ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। কিন্তু এতসব কড়াকড়ি সত্ত্বেও সোমবার রাত থেকে কলকাতা ও জেলার নানা প্রান্ত থেকে হামলার খবর আসছে।
তিলোত্তমায় তাণ্ডব
কলকাতার রাজপথে সোমবার রাত থেকেই দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একাধিক জায়গায় তৃণমূলের অফিস ও নেতাদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে:
-
টালিগঞ্জ: প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বসতি উন্নয়ন পর্ষদের অফিসের বাইরে তুমুল ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ, হামলাকারীরা ডিজে বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে করতে এই তাণ্ডব চালায়।
-
বেলেঘাটা: এই এলাকায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি পবিত্র বিশ্বাসের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
-
রুবি: রুবির কাছে তৃণমূলের একটি কার্যালয়েও গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
জেলায় জেলায় আক্রান্ত শাসক দল
কলকাতার বাইরেও মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
-
বহরমপুর: চুঁয়াপুর এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিল থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিপ্লব কুণ্ডুর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি ও বাইক ভাঙচুরের পাশাপাশি পেট্রল ঢেলে দেওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার ভিডিও ভাইরাল হলেও তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
-
শান্তিপুর: হরিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় পেসমেকার লাগানো এক তৃণমূল কর্মীকে মারধর করার অমানবিক অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
-
নবদ্বীপ: রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, গেরুয়া শিবির অফিসটি দখল করার চেষ্টাও চালায়।
ভাঙড়ে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ
শুধুমাত্র বিজেপি নয়, ভাঙড় এলাকায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছে আইএসএফ-এর বিরুদ্ধেও।
-
তৃণমূল করায় মারধর: নিমকুড়িয়া গ্রামে তৃণমূলের পতাকা না খোলার অপরাধে এক পরিবারের ওপর ৫০-৬০ জন আইএসএফ কর্মী চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
-
পরিবারের ওপর হামলা: বৃদ্ধ হাকিম আলি মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা বিবিকে মারধর করা হয়। হাকিমের ছেলের হাতে কামড়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের মহিলাদের ওপরও আস্ফালন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এখনও আইএসএফ-এর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি ও কমিশনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও যেভাবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হলেও, পরিস্থিতি এখনও থমথমে।
