আজকের দিনেতিলোত্তমা

মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরলো গার্ডরেল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় বিপুল ক্ষমতা নিয়ে বিজেপি সরকার গড়ার পথে। সোমবারের ফলাফলে নিজের গড় ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালীঘাটের চেনা ছবিতে আমূল বদল লক্ষ্য করা গেল। দীর্ঘ বছর পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনের রাস্তা জনসাধারণের জন্য কার্যত উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

সরলো নিরাপত্তার ঘেরাটোপ

মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পরিবর্তনের হাওয়া স্পষ্ট। এতদিন নিরাপত্তার খাতিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যে সব গার্ডরেল দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা হতো, পুলিশের তরফে সেগুলি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।

  • সাধারণের যাতায়াত: গার্ডরেল সরে যাওয়ায় এখন ওই রাস্তা দিয়ে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে যাতায়াত করছেন। বাইক কিংবা ছোট গাড়ি চলাচলেও আর কোনও বাধা নেই।

  • নিরাপত্তা বিধি: নিয়ম অনুযায়ী, সরকার বদলের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়। সেই প্রোটোকল মেনেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

  • বর্তমান পরিস্থিতি: মমতার বাড়ির ঠিক সামনে এখনও একটি পুলিশ ক্যাম্প এবং জনাকয়েক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছেন। তবে নিরাপত্তার কড়াকড়ি আগের তুলনায় অনেকটাই শিথিল।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া

কালীঘাটের বাসিন্দাদের মধ্যে এই বদলে খুশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এতদিন নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষকে অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হতো, এখন সরাসরি যাতায়াত করতে পেরে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যদিও পাড়ার অলিতে-গলিতে এখনও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নামে পোস্টার ও ব্যানার রয়ে গিয়েছে, তবে চলাচলের পথে সেগুলি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না।

আগামীর পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রে খবর, বিধি মেনেই ধাপে ধাপে এই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের কাজ চলছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখন থেকে ন্যূনতম নিরাপত্তা পাবেন। আগামী দিনে তাঁর বাসভবন এবং সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আরও কিছু বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দশকেরও বেশি সময় পর কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে ভিআইপি নিরাপত্তার এই কড়াকড়ি সরে যাওয়াকে বাংলার ক্ষমতার অলিন্দে পরিবর্তনের এক প্রতীকী ছবি হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *