আজকের দিনেতিলোত্তমা

প্রথম দফায় ১১০ পার! আত্মবিশ্বাসী শাহর মুখে ‘সোনার বাংলা’র সুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই জয়ের ব্যবধান নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ১৫২টি আসনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা এবং পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে শাহ দাবি করেছেন, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ী হতে চলেছে বিজেপি। শুক্রবার সকালে কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকে শাহ এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর এই দাবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ভোটের হারই বদলের ইঙ্গিত: শাহ
​এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শাহ শুরুতেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের হারকে তিনি ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কথায়:
​”মানুষ দুর্নীতি এবং গুন্ডামি থেকে মুক্তি চায়। এই বিপুল জনজোয়ার প্রমাণ করে দিচ্ছে যে তৃণমূল যাচ্ছে এবং বিজেপি আসছে।”

কোন ভিত্তিতে ১১০ আসনের দাবি?
​সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর আত্মবিশ্বাসের নেপথ্যে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:
​প্রতিষ্ঠা-বিরোধী হাওয়া: বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে তীব্র ক্ষোভ।
মহিলাদের নির্ভয় অংশগ্রহণ: দীর্ঘ সময় পর বাংলার মহিলারা ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিয়েছেন বলে শাহ মনে করেন।
​প্রশাসনের ভূমিকা: নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্ন হওয়া।

​মুখ্যমন্ত্রী হবেন ভূমিপুত্রই
​রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বহিরাগত’ বিতর্ক উস্কে দিয়ে তৃণমূল যে প্রচার চালাচ্ছিল, তারও কড়া জবাব দিয়েছেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “বাংলার মাটিতে বেড়ে ওঠা এবং বাংলার হয়ে কাজ করা কোনো বাঙালিই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” ভিনরাজ্য থেকে কাউকে এনে বসানোর দাবিকে তিনি স্রেফ ‘রটনা’ বলে উড়িয়ে দেন।
তৃণমূল বনাম বিজেপি: পরিসংখ্যানের লড়াই
​উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোট শেষে তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন যে তাঁরা ১৩০টিরও বেশি আসন পাবেন। তার পাল্টা হিসেবে আজ শাহর ‘১১০+’ আসনের দাবি দ্বিতীয় দফার আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলল।
​আগামী ২৯ তারিখ রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। শাহর বিশ্বাস, প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভোটাররা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন এবং বিজেপির জয় নিশ্চিত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *