আজকের দিনেবাংলার আয়না

গেরুয়া শিবিরে আর্থিক প্রতারণা বিতর্ক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গেরুয়া শিবিরের রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ এনেছেন দলেরই এক প্রবীণ নেতা, পাঁশকুড়ার বাসিন্দা নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র। বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র বিজেপির পরিচিত মুখ। একাধিকবার বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি, যদিও জয় আসেনি। তাঁর অভিযোগ, দফায় দফায় তাঁকে প্রার্থী করা এবং দলের উচ্চ পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিন্টু সেনাপতি তাঁর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মোট টাকার পরিমাণ প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা।

প্রবীণ ওই বিজেপি নেতার আরও অভিযোগ, এক সময় তাঁকে সল্টলেকে আটকে রেখে জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। সিন্টু সেনাপতি ও তাঁর সহযোগীরা জোরজবরদস্তি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও দাবি নারায়ণকিঙ্করের। শুধু তাই নয়, পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র জানান, এই বিষয়টি তিনি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে সেখান থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিন্টু সেনাপতি ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে লিখিত চুক্তিতেও সই করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি। উল্টে টাকা চাইতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন।
এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র তমলুক জেলা আদালতে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দেন। ৭৪ বছরের এই প্রবীণ বিজেপি নেতা বলেন,
“১৯৮৮ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত আমি। ২০১১ সালে সিন্টু সেনাপতির সঙ্গে পরিচয় হয়। ধাপে ধাপে আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। দলের একাধিক নেতাকে জানিয়েও কোনও ফল পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।”

তিনি বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানান।
তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতি। তাঁর বক্তব্য, নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র এখন আর বিজেপির সক্রিয় সদস্য নন এবং বহুদিন ধরেই দল করেন না। তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। উল্টে নারায়ণকিঙ্কর মিশ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সিন্টু সেনাপতি বলেন, তাঁর জমি দালালির কারবার প্রকাশ্যে আনা হবে।

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কটাক্ষে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। পাঁশকুড়া শহর তৃণমূলের সভাপতি শেখ সমিরুদ্দিন বলেন,
“দু’জনেই বিজেপি করেন। বিজেপির অন্দরের গুঁতোগুঁতির দায় তৃণমূলের উপর চাপিয়ে লাভ নেই। সত্যিটা বেরিয়ে আসবেই। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের উপর ভরসা রেখেছেন। একজন নাগরিক হিসেবে চাই, তিনি ন্যায়বিচার পান।”

বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অভিযোগ ঘিরে বিজেপির অন্দরে যে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *