অন্যান্যআজকের দিনে

জনসাধারণের মতামত জানতে চায় আরবিআই

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: এখন ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়ানোর থেকে ঘরে বসে স্মার্টফোনে  টাকা আদান-প্রদান করতেই মানুষ অভ্যস্থ। এতে একদিকে যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাইবার জালিয়াতি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় সুরক্ষিত রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। জালিয়াতি রুখতে ‘কিল সুইচ’ এবং ‘ল্যাগড ক্রেডিট’-এর মতো একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আগামী ৮ মে, ২০২৬-এর মধ্যে এই বিষয়ে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে আরবিআই।

‘কিল সুইচ’  কি?

মোবাইল অ্যাপে একটি বিশেষ ‘কিল সুইচ’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে আরবিআই। যদি কোনো গ্রাহক বুঝতে পারেন যে তাঁর ফোন হ্যাক হয়েছে বা তিনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তবে এই বাটনে ক্লিক করামাত্রই তাঁর অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা (যেমন- UPI, নেট ব্যাঙ্কিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে। একবার এই পরিষেবা বন্ধ হলে, তা পুনরায় চালু করতে গ্রাহককে কঠোর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে অথবা সরাসরি ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে।

‘ল্যাগড ক্রেডিট’ কি

প্রতারণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আর্থিক জালিয়াতির প্রায় ৯৮.৫ শতাংশই ঘটে ১০,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে। তাই আরবিআই  ‘ল্যাগড ক্রেডিট’ (Lagged Credit)-এর প্রস্তাব দিয়েছে।

বড় লেনদেনে বিরতি

যদি আপনি ১০,০০০ টাকার বেশি কাউকে পাঠান, তবে টাকাটি প্রাপকের অ্যাকাউন্টে তৎক্ষণাৎ জমা পড়বে না। লেনদেন শুরু হওয়ার পর ১ ঘণ্টার একটি ‘হোল্ড পিরিয়ড’ বা বিরতি থাকবে।

এই সময়ের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কাটলেও তা প্রাপকের কাছে পৌঁছাবে না। ফলে ভুলবশত বা প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে টাকা পাঠালে, এক ঘণ্টার মধ্যে সেই লেনদেন বাতিল করার সুযোগ পাবেন গ্রাহক।

‘ট্রাস্টেড পার্সন’ আনছে আরবিআই
৭০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ‘ট্রাস্টেড পার্সন’ (Trusted Person) বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির ধারণা নিয়ে আসছে আরবিআই । বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই গ্রাহকরা একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করতে পারবেন, যাঁর যাচাইকরণ বা অথেন্টিকেশন ছাড়া লেনদেন সম্পন্ন হবে না। এতে প্রবীণদের লক্ষ্য করে চলা জালিয়াতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

কেন এই কড়াকড়ি?
ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ডিজিটাল জালিয়াতি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২৮ লক্ষ জালিয়াতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২,৯৩১ কোটি টাকা। এছাড়া ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ (অন্যের নামে খোলা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট) ব্যবহার করে কালো টাকা সাদা করা রুখতে অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ বা ‘ক্রেডিট লিমিট’ বেঁধে দেওয়ার কথাও ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *