E. C. : দাগিদের তালিকায় নাম নেই কুখ্যাত সোনা পাপ্পুর, কমিশন সাসপেন্ড করল কসবা থানার ওসিকে !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সাসপেন্ড করা হলো কসবা থানার ওসি বিশ্বনাথ দেবনাথকে । নির্বাচনের আগে কমিশন এলাকায় দাগীদের তালিকা চেয়ে পাঠায় । সেই মতো বিধানসভা নির্বাচনের আগে এলাকার দাগীদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন । সেখানে কুখ্যাত সোনা পাপ্পুর নাম পাঠায়নি কসবা থানা । সে কারণেই নির্বাচন কমিশন সাসপেন্ড করলো কসবা থানার ওসিকে।
প্রসঙ্গত প্রত্যেক নির্বাচনের আগেই সমস্ত থানার কাছে এলাকার দাগিদের তালিকা চাই নির্বাচন কমিশন। মূলত এলাকায় কারা কারা দুষ্কৃতীরাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের তথ্য চায় কমিশন । রাজ্যের সমস্ত থানার পাশাপাশি কসবা থানায় ও সেই তালিকা চেয়ে পাঠানো হয় কমিশনের পক্ষ থেকে । কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কসবা থানা সেই তালিকায় কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এর নাম পাঠাইনি । গতকাল ৪ এপ্রিল শনিবার নির্বাচন কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল কসবা থানায় আসে এবং ওসির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করে । কমিশনার কর্তাদের প্রশ্নে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় সাসপেন্ড করা হয় কর্তব্যরত ওসি বিশ্বনাথ দেবনাথকে ।
সম্প্রতি সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার এর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ই ডি । বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। গোলপার্কের কাকলিয়া রোডের সংঘর্ষে গুলি ও বোমা চলার ঘটনায় পুলিশ তাকে খুঁজছে । দীর্ঘদিন ধরে সে নিরুদ্দেশ । এলাকার মানুষের কাছে পাপ্পু নামে পরিচিত ছিলেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার । স্থানীয় সূত্রে জানা যায় তার পরিবারের নিজস্ব সোনার ব্যবসা ও দোকান রয়েছে। মাঝে মাঝে সেই দোকানেও দেখা যেত সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎকে। সেখান থেকেই তার অপরাধ জগতে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করা শুরু। সর্বপ্রথম ২০১৫ সালের বালিগঞ্জ রেলগেট এলাকা দখলের নামে যে সংঘর্ষ হয়েছিল সেখানে তার নাম উঠে আসে পরবর্তীকালে ২০১৭ সালে একটি খুনের মামলায় তার নাম জড়িয়েছিল । একাধিক এফআইআরে তার নাম রয়েছে । কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কসবা থানার পক্ষ থেকে দুষ্কৃতীদের তালিকায় সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিতের নাম দেওয়া হয়নি সে কারণেই কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্ত ।
প্রসঙ্গত নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজ্যের প্রশাসন ও আমলাদের ক্ষেত্রে একাধিক রদবদল ঘটিয়েছিল কমিশন । পুলিশদেরও বদলি করা হয়েছিল । বাসন্তী থানার এলাকায় বিজেপি নির্বাচনে প্রচার চলাকালীন সংঘর্ষের ঘটনার পরে, সাসপেন্ড করা হয়েছিল বাসন্তী থানার আইসিকে । এবার সাসপেন্ড পুলিশ আধিকারিকদের তালিকায় নাম যোগ হলো কসবা থানার ওসির ।
