আজকের দিনেতিলোত্তমা

২০২৬-এর লক্ষ্যে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কার্যত রণকৌশল সাজিয়ে ফেলল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার প্রকাশিত হলো তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহার, যার মূল স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’-কে। মহিলা, যুবসমাজ থেকে শুরু করে কৃষক ও সরকারি কর্মচারী— সব পক্ষকেই এই ইস্তাহারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
 লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বড় চমক ও যুব-সাথী প্রকল্প
​তৃণমূলের এবারের ইস্তাহারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি। সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য তা ১,৭০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মহীন যুবকদের জন্য আনা হয়েছে ‘বাংলার যুব-সাথী’ প্রকল্প। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীরা ৫ বছর ধরে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
এক নজরে ‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা’
​রাজ্যের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে দশটি বিশেষ ক্ষেত্রের ওপর জোর দিয়েছে তৃণমূল:
​কৃষি: কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার পৃথক কৃষি বাজেট।
জল ও আবাসন: প্রতিটি ঘরে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল এবং সকলের জন্য পাকা বাড়ি।
​স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: ব্লকে ব্লকে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির এবং সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ।
প্রশাসন: ৭টি নতুন জেলা গঠন ও পৌর পরিষেবার মানোন্নয়নে পৌরসভার সংখ্যা বৃদ্ধি।
​সামাজিক নিরাপত্তা: প্রবীণ নাগরিকদের ভাতা চালু রাখা।

​সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর: সপ্তম পে কমিশন
​দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ডিএ)এবং বেতন কাঠামো নিয়ে বড় ঘোষণা রয়েছে ইস্তাহারে। তৃণমূল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে এবং সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে।
​ উন্নয়নের মডেল ও কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’
​মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের যে মডেল তৈরি হয়েছে, তাতেই ১.৭২ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। রাজ্যে বেকারত্ব ৪০% কমেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা হিসেবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ২ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া নিয়ে রাজনৈতিক সুর চড়িয়েছে শাসকদল।
আগামী লক্ষ্য: দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি
​অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রের মস্তিষ্কপ্রসূত এই ইস্তাহারে আগামী ১০ বছরে বাংলাকে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছরে বাংলার অর্থনীতিকে ৪০ লক্ষ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য গ্লোবাল ট্রেড হাব, বন্দর এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। নারীশক্তি, যুবশক্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে হাতিয়ার করেই ২০২৬-এর বৈতরণী পার হতে চাইছে তৃণমূল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ব্যাপ্তি এবং বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *