আজকের দিনেতিলোত্তমা

পথে নামল তৃণমূল, ধরনায় গরহাজির ৫০ বিধায়ক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

 

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর কালীঘাটে দফায় দফায় বৈঠক হলেও পথে দেখা মেলেনি মমতা-অভিষেকের। দলের অন্দরেই বাড়ছে চাপানউতোর। বিধায়কদের চাপে শেষমেশ বুধবার বিধানসভায় ধরনায় বসল তৃণমূল। তবে সেখানেও গরহাজির ৫০ বিধায়ক।

১৫ বছরের শাসনের পর ফের বিরোধী আসনে তৃণমূল। ফলপ্রকাশের প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘাসফুল শিবিরের তরফে রাজপথে সেরকম কোনও পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। কার্যত প্রকাশ্যেই আসেননি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলেও তা আটকে রয়েছে সোশাল মিডিয়াতেই। হকার উচ্ছেদের বিরোধিতাও করা হয়েছে সেই সোশাল মিডিয়াতেই। ফলে ক্রমশ কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে দলের।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কালীঘাটের মিটিংয়ে এবিষয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছেন দলের একাধিক বিধায়ক। তাঁদের সাফ কথা, “ঘরে বসে মিটিং করে দল বাঁচানো যাবে না।” জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হল না, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন পথের লড়াইয়ে নামছেন না, তাঁর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির পর্যায়ে পৌঁছয় বলেও খবর। জাহাঙ্গিরকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও দলের তরফে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ঠিক তার পরদিনই পথে নামলেন তৃণমূল বিধায়করা। বুধবার সকালে ভোট পরবর্তী হিংসা ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসলেন তাঁরা। রয়েছেন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পালাবদলের পর দলের প্রথম কর্মসূচিতেই দেখা মিলল না ৫০ বিধায়কের। কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন, কেউ নীরবে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। ফলাফল প্রকাশের পর দলের ক্রমশ মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বিরক্ত বিধায়করাই। ওয়াকিবহল মহলের মতে, বিধানসভার ধরনায় অর্ধেক বিধায়কের অনুপস্থিতি তৃণমূলের ভগ্নপ্রায় দশারই প্রমাণ। নতুন করে মসনদে বসতে হলে মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে হবে, ফের লড়তে হবে পথে নেমে—সেটাই এখন দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *