আজকের দিনেবাংলার আয়না

বর্ধমানে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনি

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বর্ধমানঃ-  ফের ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমান। তবে এই ঘটনার তদন্তে নেমে এক বড়সড় নাবালক পাচারচক্রের হদিশ পেল বর্ধমান থানার পুলিশ। ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই যুবককে। ধৃতদের নাম বাবলু শেখ (৪৪) ও শেখ মোবারক (৩২)। আজ, শনিবার তাদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে।

​শুক্রবার রাতে বর্ধমান থানা এলাকায় দুই যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আচরণে সন্দেহ হওয়ায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে উত্তেজিত জনতা ওই দুজনকে পাকড়াও করে গণপিটুনি দিতে শুরু করে। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই দুই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

​পুলিশি জেরায় জানা যায়, ধৃত বাবলু শেখ মালদহের কালিয়াচকের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা এবং মোবারক বর্ধমানেরই গলসির বাসিন্দা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বর্ধমানের বাসিন্দা শেখ রহিমের ছেলে শেখ জসিম নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, জসিমকে অপহরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই নাবালক অপহরণকারিদের ‘গোপন ডেরা’ থেকে কোনওমতে পালিয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হয়। ​বাড়িতে ফিরে জসিম জানায়, তাকে একটি গোপন ডেরায় আটকে রেখে প্রচণ্ড মারধর ও অত্যাচার করা হতো। সে আরও জানায়, সেখানে তার মতো আরও অনেক নাবালককে বন্দি করে রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, জসিমকে এই বাবলু ও মোবারকই অপহরণ করেছিল।

​প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি সুসংগঠিত পাচারচক্র। নাবালকদের ভুল বুঝিয়ে বা অপহরণ করে অন্য কোথাও পাচার করা হতো এবং পরে তাদের দিয়ে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কাজ করানো হতো।  “ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই গোপন ডেরায় আর কোনও নাবালক আটকে রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

​আজ ধৃত দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনও বড় মাথা কাজ করছে কি না, তা এখন তদন্তকারীদের নজরে। এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *