আজকের দিনেতিলোত্তমা

“সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি চাইনি, ও-ই ষড়যন্ত্রের সাক্ষী হতে পারে”— হাই কোর্টের নির্দেশের পর বিস্ফোরক অভয়ার মা

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, ​কলকাতা: আরজি কর কাণ্ডে হাই কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। শুক্রবার সরাসরি বড় কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তাঁর সাফ কথা, তিনি মূল সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের তড়িঘড়ি ফাঁসি চাননি, কারণ সঞ্জয়ই হতে পারে এই গোটা ষড়যন্ত্রের একমাত্র চাক্ষুষ সাক্ষী।

​এদিন রত্নাদেবী অভিযোগ করেন যে, একটি বড় চক্রকে আড়াল করতে এবং আসল সত্য ধামাচাপা দিতেই দ্রুত সাজা দিয়ে সঞ্জয়ের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর নিশানায় ছিল রাজ্যের ‘থ্রেট কালচার’ এবং প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা। তিনি বলেন, ​সঞ্জয় রায় একাই এই কাজ করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। ​তদন্তের গভীরে গিয়ে বড় মাথার হদিস পাওয়া দরকার। প্রভাবশালীদের বাঁচাতেই কি দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়েছিল? উঠছে সেই প্রশ্নও। ​রত্নাদেবীর এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়কে জেল হেফাজতে গিয়ে প্রয়োজন হলে ফের জেরা করতে পারবে সিবিআই। আদালতের ধারণা, সঞ্জয় অনেক গোপন তথ্য জানে। তাই তদন্তে প্রয়োজনে ‘আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে বেঞ্চ।  তদন্তের স্বার্থে সিবিআই যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জেরা করার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারের জমা দেওয়া ডিএনএ প্রোফাইল ও অডিও ক্লিপ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ মে।
​এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন রত্নাদেবী। মেয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আজ হয়তো মেয়ের এমডি শেষ হতো, ও সংসার গড়ত। এখন সব স্মৃতি। ও আর কোনওদিন আমায় মা বলে ডাকবে না।” তবে ব্যক্তিগত শোককে সরিয়ে রেখে তিনি স্পষ্ট জানান, এই লড়াই শুধু তাঁর মেয়ের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য। ​হাই কোর্টের সবুজ সঙ্কেত এবং পরিবারের এই দাবির পর সিবিআই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। বিশেষ করে ‘থ্রেট কালচার’ ও প্রভাবশালীদের যোগসূত্র নিয়ে যে প্রশ্নগুলো রত্নাদেবী তুলেছেন, তার উত্তর মিলবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *