আজকের দিনেবাংলার আয়না

দিলীপের মনোনয়ন মিছিলে শুভেন্দু

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,মেদিনীপুর: গোলবাজারের ভিড় ঠেলে এগোচ্ছে গেরুয়া আবির আর পতাকার মিছিল। হুডখোলা ট্যাবলোয় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলছেন দুই হেভিওয়েট নেতা— দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী। একসময়ের ‘শীতল যুদ্ধ’ ভুলে শনিবার খড়গপুর সদর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের মনোনয়ন পর্বে আগাগোড়া ছায়াসঙ্গী হিসেবে দেখা গেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। বঙ্গ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ছবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ২০১৬ সালে এই খড়গপুর সদর থেকেই বিধায়ক হয়ে সংসদীয় রাজনীতির যাত্রা শুরু করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। ২০১৯-এ তিনি সাংসদ হওয়ার পর উপনির্বাচনে এই কেন্দ্র হাতছাড়া হয় বিজেপির। গত বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় এই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেও এবার দল ফের ভরসা রেখেছে দিলীপের ওপর। নিজের হারানো দুর্গ ফিরে পাওয়া এখন দিলীপ ঘোষের কাছে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’। এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে সকালে খড়গপুর রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে বর্ণাঢ্য রোড শো শুরু করেন তিনি। মিছিলে দিলীপ-শুভেন্দুর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও।

গত লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে দিলীপ ঘোষকে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে তৃণমূলের কীর্তি আজাদের কাছে হারের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন দিলীপ। সরাসরি নাম না নিলেও তিনি দাবি করেছিলেন, “আমাকে হারানোর জন্য দলেই কাঠিবাজি হয়েছে।” রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, তাঁর তূণ ছিল শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই। কিন্তু পাঁচ বছর পর বিধানসভা ভোটের ময়দানে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। একে অপরের মনোনয়নে সক্রিয় উপস্থিতি এবং জনসমক্ষে সখ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে কর্মীদের কাছে কি বিশেষ কোনো বার্তা দিতে চাইলেন তাঁরা?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ-শুভেন্দুর এই ‘ভাব’ আসলে দলের ওপরতলার নির্দেশে ঐক্যের কৌশল হতে পারে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে যাতে ভোট বাক্সে কোনো প্রভাব না পড়ে, তার জন্যই এই মেকি বা অকৃত্রিম সৌজন্যের প্রদর্শন। খড়গপুর সদরে ‘এক লক্ষ মার্জিনে’ জয়ের আত্মবিশ্বাস শুনিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তবে ৪ মে ভোটবাক্স খোলার পরেই বোঝা যাবে, নেতাদের এই হাত মেলানো কর্মীদের মনে কতটা জোশ জোগাতে পারল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *