আজকের দিনেবিশ্ব

খামেনেইয়ের মৃত্যু ১০০ দিন পার, কবর দেওয়া হয়নি,কোথায় রাখা প্রাক্তন সুপ্রিম লিডারের দেহ?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তথা সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। তাঁর মৃত্যুর পর ইতিমধ্যে ১০০ দিনেরও বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে। ইরানের মসনদে বসেছেন খামেনেই-পুত্র মোজতবা খামেনেই। তবে এক শতাব্দীরও বেশি দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যায়নি প্রাক্তন সুপ্রিম লিডারের। কিন্তু কেন? নেপথ্যে উঠে আসছে এক গভীর নিরাপত্তা সংকট ও চাঞ্চল্যকর কিছু জল্পনা।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কাঁটা ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ’

প্রাথমিকভাবে তেহরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে সমাহিত করা হবে খামেনেইকে। তার আগে দেশজুড়ে তাঁর মরদেহ নিয়ে বিশাল শোক সমাবেশের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার ভয়: ইরানি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, খামেনেইয়ের শেষকৃত্য উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের বিশাল জমায়েত হলে সেখানে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইজরায়েল বা আমেরিকা। সেক্ষেত্রে বড়সড় বিপর্যয় ও ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে।

  • কোথায় আছে খামেনেইয়ের দেহ? মৃত্যুর ১০০ দিন পর খামেনেইয়ের মরদেহ বর্তমানে ঠিক কোথায় এবং কী অবস্থায় রাখা হয়েছে, তা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব তেহরান। ফলে তাঁর দেহের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তীব্র হচ্ছে।

আড়ালে নয়া সুপ্রিম লিডার: মোজতবা কি আদৌ সুস্থ?

ইরানের এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ম মেনে বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রধান ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা পুত্র তথা নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের। কিন্তু তিনিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ আত্মগোপন করে আছেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা। এর পেছনেও রয়েছে তীব্র প্রাণসংশয়। সাম্প্রতিক বেশ কিছু গোয়েন্দা রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে:

১. গুরুতর আহত: গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ যৌথ হামলায় মোজতবা বরাতজোরে বেঁচে গেলেও তিনি গুরুতর জখম হন।

২. শারীরিক অবস্থা: রিপোর্টে দাবি, হামলায় তাঁর মুখমণ্ডল এবং পায়ে গভীর চোট লেগেছে। এমনকি তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা নিয়েও রহস্য দানা বাঁধছে।

একদিকে ইজরায়েলি ড্রোন বা মিসাইল হামলার দাপট, অন্যদিকে নয়া সুপ্রিম লিডারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা— এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপেই আপাতত থমকে রয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্য। মধ্যপ্রাচ্যের এই ছায়াযুদ্ধের আবহে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর বিশ্বরাজনীতির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *