আজকের দিনেভারত

৬ বছরের শিশুকে গণধর্ষণ তিন নাবালকের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ছয় বছরের শিশু কন্যাকে গণধর্ষণ! ধর্ষণ করে তিন নাবালক। ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ জানুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লির ভজনপুরা এলাকায়। ১৯ জানুয়ারি পুলিশ ১০ ও ১৩ বছর বয়সি দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাঁদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে পেশ করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযুক্ত, ১৪ বছরের কিশোর, এখনও পলাতক। তার পরিবারকেও পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এই তিন নাবালক ওই শিশু কন্যার প্রয়াত দাদার (১৪) বন্ধু ছিল। শিশুটির বাবা পেশায় রিকশাচালক। পরিবার খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করে। ঘটনার দিন সন্ধ্যার সময় শিশুটি বাড়ির কাছেই খেলছিল। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় সাতটা নাগাদ শিশুটি গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে। তার শরীর থেকে রক্ত বের হচ্ছিল এবং সে প্রায় অচেতন অবস্থায় ছিল। শিশুটিকে সেই অবস্থায় দেখে পরিবারের সবাই ভয় পেয়ে যান। প্রথমে জ্ঞান ফেরার পর শিশুটি জানায়, সে নাকি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেই সময় পাশের বাড়ির এক ১৩ বছরের কিশোরও একই কথা বলে। এতে প্রথমে পরিবারের মনে সন্দেহ হয়নি। তারা ভেবেছিলেন, খেলতে গিয়ে হয়তো কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে। বারবার জিজ্ঞাসা করার পর শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং ধীরে ধীরে ঘটনার আসল কথা জানায়। শিশুটির বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচিত তিন নাবালক তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে বাড়ির কাছ থেকে ডেকে নিয়ে যায়। শিশুটির মা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন তাঁর স্বামী মেয়েকে মিষ্টি কিনে দেওয়ার জন্য লেনের মুখে নামিয়ে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই অভিযুক্তরা শিশুটিকে কাছাকাছি একটি ফাঁকা দোতলা বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে তাকে ভয় দেখানো হয় এবং কাউকে কিছু না বলতে বলা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিশুটিও একই ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভয় দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবার প্রথমে জাফরাবাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরে তদন্তের সুবিধার জন্য মামলাটি ভজনপুরা থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। শিশুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য জগ প্রবেশচন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুটির অবস্থা তখন অত্যন্ত গুরুতর ছিল। সে হাঁটতে পারছিল না এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছিল। চিকিৎসকরা একাধিক শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর সে এখন বাড়িতেই রয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শিশুটি এখনও শয্যাশায়ী। বসলে বা হাঁটলে তার যন্ত্রণা বেড়ে যায়। পাশাপাশি সে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছে। পরিবারের দাবি, শিশুটির স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেক সময় লাগবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফাঁকা দোতলা বাড়ি থেকে রক্তের চিহ্ন উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আশপাশের মানুষজনের সঙ্গেও কথা বলছেন।

এদিকে শিশুটির বাবা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ওরা যদি বুঝে-শুনে এই কাজ করে থাকে, তাহলে বয়স কম হলেও শাস্তি হওয়া উচিত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি ভীষণ আতঙ্কে রয়েছেন। সেই আতঙ্কে ঠিকমতো কাজে যেতেও পারছেন না। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *