Teacher-Election : আগে শিক্ষক, পরে ভোট …..
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- স্কুলের ঘর আছে, পড়ুয়ারাও আছে। কিন্তু দু’বছর ধরে কোনও শিক্ষক নেই। তাই তালা ঝুলছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা-১ ব্লকের মনোহরপুর-১ পঞ্চায়েতের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে।
এই স্কুলে আগে একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর উপর ভরসা করেই চলত স্কুল। প্রায় ৬০ জন ছেলে-মেয়ে এখানে পড়ত। ২০২৪ সালে ওই শিক্ষক অবসর নেন। তারপর আর কাউকে শিক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়নি। তাই স্কুল বন্ধ হয়ে যায়।
স্কুল বন্ধ থাকায় গ্রামের শিশুদের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হচ্ছে। এত দূরে যেতে না পেরে অনেক বাবা-মা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। ফলে অনেক শিশুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবু গ্রামের মানুষ স্কুলের সরস্বতী পুজো বন্ধ করেননি। গত দু’বছর ধরে স্কুল বন্ধ থাকলেও নিজেরাই পুজোর আয়োজন করছেন তাঁরা। এ বছর পাশের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পুজো হয়েছে। গ্রামবাসী জ্যোৎস্না মল্লিক বলেন, “স্কুলে শিক্ষক নেই, এটা খুব খারাপ লাগে। তবু পুজো বন্ধ হতে দিইনি।”
এই স্কুলে মিড-ডে মিলের রান্নার কাজ করতেন সরস্বতী মল্লিক। স্কুল বন্ধ হওয়ায় তাঁর কাজ চলে গেছে। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক এলেই স্কুল খুলে যাবে। আমাদের কাজও ফিরবে, বাচ্চারাও পড়তে পারবে।”
গ্রামবাসীরা বহুবার পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে জানালেও কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার তাঁরা কড়া কথা বলছেন। ভোটের আগে যদি স্কুলে শিক্ষক না দেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা ভোট দেবেন কি না, তা ভেবে দেখবেন।
গ্রামের মানুষ মধুমিতা মল্লিক, কল্পনা বলিদান ও ভরত দোলই বলেন, “স্কুল থাকতেও যদি বন্ধ থাকে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না। আগে স্কুল চালু হোক, তারপর ভোট।”
এ বিষয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতা সবুজ মজুমদার বলেন, “অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে আছে। সরকার বদলালে শিক্ষক নিয়োগ হবে।” অন্যদিকে তৃণমূল ব্লক সভাপতি সূর্যকান্ত দোলই বলেন, “বিষয়টি জানি। উপরে জানিয়েছি। একজন শিক্ষক দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
