আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

RITABRATA-ABHISHEK : ‘১৫ বছরের দুর্নীতির অভিশাপ…’ আশিসের মৃত্যুতে কালীঘাটকেই দায়ী করলেন ঋতব্রত, পাল্টা জবাব অভিষেকের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, বীরভূম :- তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রবিবার সকালে রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ। পাশে মেলে সুইসাইড নোট। আর সেই মৃত্যু নিয়েই এখন একে অপরকে নিশানা করছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী। (RITABRATA-ABHISHEK)

রামপুরহাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে ৭৫ বছরের আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার হয় রবিবার সকালে। এলাকায় ‘সজ্জন’ রাজনীতিক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগে লিখে যাওয়া নোটই এখন তদন্তের মূল হাতিয়ার।

ঘটনার খবর পেয়েই রামপুরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামান, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীরা। পথেই ভিডিও বার্তায় ঋতব্রত সরাসরি কালীঘাটকে নিশানা করেন। (RITABRATA-ABHISHEK)

তাঁর কথায়, ‘‘গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে যে সংগঠিত লুট আর আইনি ভুল হয়েছে, তাতে তৃণমূলের মুষ্টিমেয় মানুষ জড়িত থাকলেও তার দায় নিতে হয়েছে নিরীহ রাজনীতিকদের। এলাকায় তাঁদের অপমানিত হতে হয়েছে, কটূ কথা শুনতে হয়েছে। এর ভয়ংকর প্রভাব পড়ল আশিসদার উপর।”

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ববোধের উদাহরণ দিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘উনি বিধানসভায় এসে বলেছিলেন, ডেপুটি স্পিকার থাকাকালীন যাঁদের অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ করেছিলাম তাঁরা যেন স্থায়ী হয়। উনি গত ১৫ বছরে বারবার দলকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না। কিন্তু কালীঘাটের লোকজন তা কানে তোলার প্রয়োজন মনে করেননি। এনিয়ে আশিসদা ব্যথিত ছিলেন।” (RITABRATA-ABHISHEK)

অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে পাল্টা পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু হৃদয়বিদারক নয়। Suicide Note-এ তিনি যে ধারাবাহিক অপপ্রচার ও কালিমালিপ্ত করার যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন তা উপেক্ষা করা যায় না। বিজেপি এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশকে আজ অবশ্যই ভাবতে হবে, এমন এক রাজনীতির পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, যেখানে অভিযোগকে ক্রমাগত প্রচার করে বড় করে তোলা হয়।”

সুইসাইড নোটে আশিসবাবু কাউকে সরাসরি দায়ী করেননি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। একদিকে ‘দুর্নীতির অভিশাপ’, অন্যদিকে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ। এখন পুলিশি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *