NARENDRA MODI : লালকেল্লা থেকে মোদির ৫ বড় ঘোষণা: AI থেকে অলিম্পিক, তরুণদের হাতেই বিকশিত ভারত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (NARENDRA MODI)। জেন জি-দের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যাক তরুণরা”। একইসঙ্গে বিকশিত ভারত ২০৪৭ গড়তে শিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও খেলার ক্ষেত্রে একাধিক রোডম্যাপ দিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণের শুরুতেই যুবসমাজকে দেশ গড়ার মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বিকশিত ভারতের মূল ভিত্তি আমাদের যুবসমাজ। দেশে আড়াই লক্ষের বেশি স্টার্টআপ। স্টার্টআপের গড় আয়ু ২৮ বছর। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় ডেটা যুবসমাজকে শক্তিশালী করেছে। নিজের স্বপ্নপূরণে এগিয়ে যাক তরুণরা।”
শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়ে মোদি (NARENDRA MODI) ঘোষণা করেন, আগামী এক বছরে এক কোটি যুবককে AI নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, স্কিল ইন্ডিয়া, খেলো ইন্ডিয়া হয়েছে এবং জাতীয় শিক্ষানীতিতে বড় বদল আনা হয়েছে। ২০০৪-২০১৪ সালে দেশে তিনশোরও কম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল, গত ১০-১২ বছরে তা ৬০-র বেশি হয়ে গিয়েছে। এর ফলে নতুন নতুন আয়ের রাস্তা খুলেছে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী (NARENDRA MODI) বলেন, “দ্রুত পালটাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র। রকেট গতিতে বদলাচ্ছে প্রযুক্তি। ভারত শুধু বাজার হয়ে থাকবে না। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর হবে। ড্রোন থেকে শুরু করে কাউন্টার ড্রোন সিস্টেম, হাইপারসোনিক মিসাইল টেকনোলজিতে আত্মনির্ভর হবে দেশ”। তিনি ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ দ্রুত কাজ করছে বলেও জানান। একইসঙ্গে বলেন, “নিজেদের স্বার্থ নিজেদের রক্ষা করতে হবে। অন্যের উপর ভরসা করে দেশ গড়া যায় না।”
অর্থনীতি ও পরিকাঠামো নিয়ে মোদি বলেন, “আমাদের কর্ম সংস্কৃতি বদল ঘটানোর সময় এসেছে। ছোট কলকবজা থেকে বড় পণ্য তৈরি করতে হবে। পণ্যের গুণমানে কোনও আপস নয়। ৫ দশকে যা হয়নি তা ৫ বছরে হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রের উন্নতি করতে হবে। শক্তির সপ্তধারার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি জানান, ভারতে এখন ৩টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট কাজ করছে এবং ভারতে তৈরি সেমি কন্ডাক্টর রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে আরও ৮টি সেমি কন্ডাক্টর প্লান্ট হবে। ৫টি নতুন পরমাণু চুল্লি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পরমাণু শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে ভারত।
রেল ও শক্তি ক্ষেত্রের উন্নতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রেলে ৯০ বছরে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে, আর গত ১০ বছরে হয়েছে ৭০ শতাংশ। ভারতে এখন হাইড্রোজেন ট্রেন চলছে। ‘PM সূর্য ঘর’ যোজনায় ৫০ লক্ষ বাড়িতে সৌরশক্তির ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিল শূন্য হয়ে গিয়েছে। সমুদ্রমন্থন প্রকল্পে ৮৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
খেলা ও সমাজ নিয়ে বড় ঘোষণা করে মোদি বলেন, ২০৩০ সালে কমনওয়েলথ এবং ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক হবে। যে খেলাগুলিতে ভারত কোয়ালিফাই করতে পারে না, সেখানেও আমরা ছাপ রাখব। ৫-১৫ বছরের বালক-বালিকাদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি এবং গ্রামে গ্রামে প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে। নেশামুক্তির জন্য ১০০ দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ বিল আনা হয়েছে এবং তা পাশ করাতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
শেষে দেশের ঐক্য ও ভবিষ্যতের কথা বলে তিনি বলেন, “২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত সংকল্প অপূর্ণ থাকবে না। আজকের ভারত নতুন স্বপ্ন দেখছে। বড় স্বপ্ন দেখার সময় এসেছে।” ভাষণ শেষ করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জওহরলাল নেহরু, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণে স্পষ্ট, ২০৪৭-এর বিকশিত ভারত গড়ার দায়িত্ব তিনি তরুণদের কাঁধেই তুলে দিতে চান। AI, স্টার্টআপ, প্রতিরক্ষা ও খেলা — সব ক্ষেত্রেই আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা এদিন লালকেল্লা থেকে তুলে ধরলেন নরেন্দ্র মোদি।
