Modi : ক্ষমা পরম ধর্ম! ‘পরলোকগত মাকেও অপমান করেছে, তবুও মাফ করলাম’ — যন্তর মন্তরের বিক্ষুব্ধদের বার্তা মোদির !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি :- শুক্রবার রাতে ভিডিও বার্তায় ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্দেশে ‘ক্ষমাসুন্দর’ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যন্তর মন্তরের আন্দোলনে নিজে এবং প্রয়াত মায়ের অপমান প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, কটাক্ষ-অপমান কোনও সমাধান নয়। আসুন, ভুল শুধরে একসঙ্গে উন্নত ভারত গড়ি।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে প্রায় একমাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের তরুণদের দল। এর মাঝেই কয়েকজনের আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সেই প্রেক্ষিতেই আড়াই মিনিটের ভিডিও বার্তা দেন মোদি।
তিনি বলেন, ‘‘ওরা আমাকে তো বটেই, আমার পরলোকগত মাকেও অনেক অপমান করেছে। কিন্তু আমি ওদের ক্ষমা করে দিলাম। অপমান বা কটাক্ষ কোনও সমাধান নয়। আসুন, সকলে একসঙ্গে কাজ করি, ভারতের জন্য।”
প্রধানমন্ত্রী মানেন সমাজে রাগ-ক্ষোভ আছে। কিন্তু তার সমাধান শাস্তি নয়। তাঁর কথায়, ‘‘কারও কারও ভুল গাইডেন্সের কারণে পড়ুয়ারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে। জীবন আমাদের বারবার শোধরানোর সুযোগ দেয়। যৌবনকাল এমন সময়, যখন আর ছোটবেলার ভুলগুলো করা যায় না। দিকভ্রষ্ট ছেলেমেয়েদের কাছে টেনে বোঝাতে হবে। দূরে ঠেলে দিলে সংশোধন হবে না।”
দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, এই আন্দোলনের মধ্যে কিছু ‘সমাজবিরোধী’ ঢুকে হিংসা ছড়িয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে ধরপাকড়ও চলছে। এই নিয়ে তৃতীয়বার রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। শেষে তাঁর আবেদন, ‘‘আমার কথা শুনে ওদের ক্ষমা করে দিন। একসঙ্গে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করি।”
আন্দোলনের আবহে মোদির এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাগের বদলে সংলাপ, শাস্তির বদলে সংশোধন — এই পথেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী। ‘ক্ষমা পরম ধর্ম’ — রবীন্দ্রনাথের এই বাণীকেই আজকের রাজনীতির মঞ্চে তুলে ধরলেন তিনি।
