ভয়াবহ দাবানলের গ্রাসে স্পেন! মৃত ১২ ,নিখোঁজ ২৩
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র দাবদাহের মধ্যে স্পেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আলমেরিয়ার লস গালার্দোস এলাকায় এক ভয়াবহ দাবানল সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। লস গালার্দোসের মেয়র ফ্রান্সিসকো রেইস বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
নিহতদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক:
সূত্রের খবর, নিহতদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক, যারা প্রশাসনের দেওয়া নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশনা উপেক্ষা করেছিলেন। উদ্ধারকারীরা বনের ভেতর ভস্মীভূত গাড়ি থেকে বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়েছিল যে অনেকেই জীবন বাঁচানোর সুযোগ পাননি। গাড়ি ফেলে পায়ে হেঁটে পালানোর সময় সাতজন মারা যান, যাদের মধ্যে চারজন ব্রিটিশ নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটেন, বেলজিয়াম, কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
আন্দালুসিয়া আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত প্রায় ৬৬ বর্গকিলোমিটার বনভূমি ও কৃষিজমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি বৈদ্যুতিক লাইন ছিঁড়ে বনাঞ্চলে পড়ার পর প্রচণ্ড গরমে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিচারমন্ত্রী ফেলিক্স বোলানোস এই ঘটনার জন্য সরাসরি ‘জলবায়ু জরুরি অবস্থাকে’ দায়ী করে জানান, আগুনটি প্রতি মিনিটে ১০০ মিটার হারে ছড়াচ্ছিল। তবে দাবানলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এখনও তদন্ত চলছে।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ:
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেদার ও লস গালার্দোস সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৪৬০ জন দমকলকর্মী দিনরাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্ত অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া ১১টি এলাকা থেকে প্রায় ১,৪৪৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আন্দালুসিয়া সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই ঘটনাকে একটি ‘মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, বর্তমান তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোয় সপ্তাহজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকবে।
