আজকের দিনেবাংলার আয়না

বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ডে দুই হিরো পুলিশকর্তা রনি ও অর্ঘ্য

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারুইপুর: বিধানসভায় নতুন ‘গুন্ডাদমন বিল’ পাস হওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় বড়সড় পদক্ষেপ রাজ্য পুলিশের। বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের ‘এনকাউন্টারে’ খতম হলো। পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর জবাবেই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর রাতারাতি রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রাজ্য পুলিশের দুই দক্ষ গুন্ডাদমন অফিসার— অর্ঘ্য মণ্ডল ও রনি সরকার।

ঘটনার পুনর্নির্মাণে গিয়ে ‘নাটকীয়’ পরিস্থিতি

বুধবার ম্যাজিস্ট্রেট, আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই এবং পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়েছেন দুই অফিসার।

  • পিস্তল ছিনতাই ও গুলি: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে নাবালিকাকে নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে সূর্যপুরের নাচনগাছা গ্রামে যান তদন্তকারীরা। সেখানেই আচমকা নাটকীয়ভাবে অফিসার রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস।
  • আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি: তাকে ধরতে পুলিশ তাড়া করলে প্রভাস পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায়। রনি সরকার কোনোক্রমে মাথা নিচু করায় গুলি তাঁর গা ঘেঁষে চলে যায়। এর পরপরই সহকর্মীর প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার্থে নিজের রিভলভার থেকে প্রভাসকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চালান বারুইপুরের গুন্ডাদমন অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল।
  • ঘটনাস্থলেই মৃত্যু: প্রথম গুলিটি প্রভাসের ডানদিকের বুকের নিচে এবং দ্বিতীয়টি কোমরের ওপর পেটের কাছে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পালাতে গিয়ে মাঠের ঘাসের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায় সে। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অফিসাররা জানান, শেষ মুহূর্তে বাঁচার জন্য তীব্র আকুতি ছিল প্রভাসের গলায়।

আলোচনার কেন্দ্রে দুই ‘সাহসী’ অফিসার

এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমজনতার মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পাচ্ছেন দুই পুলিশ আধিকারিক।

রনি সরকার: বর্তমানে ক্যানিং থানার আইসি। কনস্টেবল পদ থেকে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার জোরে ধাপে ধাপে সাব-ইন্সপেক্টর এবং পরবর্তীতে ইন্সপেক্টর হয়েছেন। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন তাঁকে বকুলতলা থানার ওসির দায়িত্ব দিয়েছিল। এর আগে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর ও জয়নগরেও সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ২. অর্ঘ্য মণ্ডল: ২০১৪ ব্যাচের এই আধিকারিক বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন অফিসার। একসময় বারুইপুর জেলা পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ -এর ইনচার্জ ছিলেন। জয়নগর, সোনারপুর, কুলতলির মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

নেপথ্যে শুভেন্দু অধিকারীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যে অপরাধ ও গুন্ডাদমন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি বিধানসভায় পাস হওয়া বিলের পর অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে ১০০ শতাংশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই (যিনি অতীতে বারুইপুরের এসডিপিও এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছিলেন) এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তার নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল মুখ্যমন্ত্রীর সেই আস্থার মর্যাদা রাখল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে তদন্ত শুরু

আইন অনুযায়ী, পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • ঘটনার পর বাধ্যতামূলক ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত  শুরু হয়েছে।
  • গোটা বিষয়টি মানবাধিকার কমিশনকেও  জানানো হচ্ছে।
  • দুই অফিসারের ব্যবহৃত অস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে এবং ঘটনাস্থল নাচনগাছা গ্রাম থেকে নিহত প্রভাসের রক্তের নমুনা ও আঙুলের ছাপসহ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই তদন্তভার সিআইডি-র হাতে যাবে নাকি সিট-ই তদন্ত করবে, তা নিয়ে প্রক্রিয়া চলছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *