দুর্দিনে ভরসা সেই কংগ্রেসই! মমতার পরে এবার ১০ জনপথে রাহুলের সঙ্গে বৈঠক অভিষেকের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- রাজ্য রাজনীতিতে উথালপাথাল। সুনামির ঝড় বললেও কম বলা হয়। কলকাতায় যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের কার্যালয়ে সই জাল কাণ্ডে সিআইডির তল্লাশি অভিযান চলছে, ঠিক তখন দিল্লিতে রয়েছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তাঁকে সোনিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ হতে দেখা গেছে। বৈঠক শুরুর আগেই সোনিয়াকে জড়িয়ে ধরেন মমতা। এমনকী বৈঠকে তাঁর পাশেই বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লির ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ১০ জনপথে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখা করলেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। তৃণমূল সূত্রে খবর, রাহুল এবং অভিষেকের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে বলে খবর। জানা গেছে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ কে শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে দুই নেতার মধ্যে। কীভাবে মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে বিজেপি বিরোধিতার প্রশ্নে দলগুলি একজোট হয়ে ময়দানে নামতে পারে, সেই নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি রাহুলের সঙ্গে অভিষেকের সঙ্গে কথা হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পরই একের পর ধাক্কা খাচ্ছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলের পর সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার সাংসদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাহুল-অভিষেক বৈঠকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুর্দিনে কংগ্রেসকে আঁকড়ে ধরে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক।
কংগ্রেসে থাকাকালীন রাজীব গান্ধীর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রী ছিলেন মমতা। সেই সূত্র ধরেই সোনিয়ার সঙ্গে মমতার সম্পর্ক ভালো।
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি হয়। তবে গান্ধী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো আছে মমতা। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মাঝে মধ্যে মমতাকে রাহুলের বিরোধিতা করতে দেখা গেলেও সোনিয়ার বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি তাঁকে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভরাডুবির পরে প্রকাশ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছেন মমতা।
