আজকের দিনেগ্রীন রুম

বাতিল ‘তিলোত্তমা’, নতুন ছবি ‘হীরক রানি’র বেশে জয়া প্রদা!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা:- আরজি কর-কাণ্ডের পটভূমিতে ‘তিলোত্তমা’ ছবি তৈরির ঘোষণা করে টলিপাড়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলে গেল সমস্ত সমীকরণ। নির্যাতিতার পরিবার বিশেষ করে মা রত্না দেবনাথের আপত্তির কারণে ‘তিলোত্তমা’ প্রজেক্টটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন নির্মাতারা। তার বদলে পরিচালক ঘোষণা করলেন এক নতুন রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র বা পলিটিক্যাল স্যাটায়ার— ‘হীরক রানির দেশে’।

বুধবার কলকাতায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ছবির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়, যেখানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ জয়া প্রদা।

 ছবি নিয়ে মূল তথ্য ও কাস্টিং

  • পরিচালক ও কাহিনিকার: ছবিটির পরিচালনায় উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় এবং মূল কাহিনি লিখেছেন শুভাশিস ঘটক।

  • ভাষা ও নাম: ছবিটি বাংলা ও হিন্দি দুই ভাষাতেই তৈরি হচ্ছে। হিন্দিতে এর নাম রাখা হয়েছে ‘ওয়েটিং ফর ইউ’

  • শুটিং ও মুক্তি: আগামী ২১ জুন থেকে কলকাতা ও মুম্বই জুড়ে ছবির শুটিং শুরু হবে। শুটিং শুরুর আগেই পরিচালক ঘোষণা করেছেন যে, চলতি বছরে পূজোর সময়  অক্টোবর মাসেই ছবিটি মুক্তি পাবে।

  • অন্যান্য কলাকুশলী: জয়া প্রদা ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করছেন বাদশা মৈত্র, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, রাজনন্দিনী পাল, অমৃতা চট্টোপাধ্যায় এবং রাহুল বর্মন।

‘হীরক রানি’ আসলে কে? রহস্যে মোড়া জয়া প্রদা

দীর্ঘদিন পর এই ছবির মাধ্যমে বাংলা সিনেমাতে প্রত্যাবর্তন করছেন জয়া প্রদা। এটি তাঁর কর্মজীবনের ২৯৫তম ছবি এবং দ্বিতীয় বাংলা ছবি। ছবিতে তিনি নামভূমিকায় অর্থাৎ ‘হীরক রানি’র মতো একটি নেতিবাচক ও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছবির নাম শোনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে— বাস্তব জীবনের কার ছায়া রয়েছে এই ‘হীরক রানি’ চরিত্রে? হাসিমুখে জয়া প্রদা জানান, “এখনই এই রহস্য ফাঁস করা যাবে না, তাহলে ছবির মজাই নষ্ট হয়ে যাবে।”

জয়া প্রদার রাজনৈতিক বার্তা ও বাংলা শেখার চ্যালেঞ্জ

ছবি ঘোষণার মঞ্চেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন জয়া প্রদা। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে বাংলার মানুষ অনেক কিছু দেখেছেন। একসময় এখানে মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ভয়ের মধ্যে কাটাতেন। বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন।” তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যেখানে তাঁদের সরকার রয়েছে সেখানে নারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলা ভাষা শেখা প্রসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী জয়া জানান, “হিন্দি বা তেলুগু তাঁর মাতৃভাষা না হলেও কাজের প্রয়োজনে তিনি তা শিখেছেন। তাই বাংলা রপ্ত করাও তাঁর কাছে বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।”

আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে যখন রানা সরকার বা শঙ্কু পাণ্ডারা ছবি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের এই পিছিয়ে আসা এবং ছবির ‘ভোলবদল’ করে পলিটিক্যাল স্যাটায়ারের রূপ দেওয়া নিয়ে টলিউডের অন্দরে জল্পনা এখন তুঙ্গে। তবে নির্মাতাদের আশা, মাটির গন্ধ ও শিকড়ের গল্প নিয়ে তৈরি এই ছবি দর্শকদের মনে দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *