জলের তোড়ে ভেসে গেল ৩ হাজার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার! জারি হাই অ্যালার্ট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার জল ঢুকে পড়েছে এইচপিসিএল -এর পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টে। আর তার জেরেই প্ল্যান্টে মজুত থাকা প্রায় তিন হাজার রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বন্যার জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাতালগঙ্গা নদীতে শয়ে শয়ে সিলিন্ডার ভেসে যাওয়ার একাধিক ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই পুরো জেলা জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন।
প্ল্যান্টে হু হু করে ঢুকল জল, নদীর স্রোতে ভাসল ‘গজরাজ’
রায়গড়ের পানভেল তালুকের চাভানে গ্রামে এইচপিসিএল-এর এই পাতালগঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টটি অবস্থিত।
-
আচমকা প্লাবন: গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে প্ল্যান্টের ভিতরে হু হু করে বন্যার জল ঢুকতে শুরু করে।
-
ভেসে গেল ৩ হাজার সিলিন্ডার: জলস্তর দ্রুত বাড়ায় প্ল্যান্টে মজুত রাখা বিপুল সংখ্যক সিলিন্ডার স্রোতের টানে ভেসে সরাসরি পাতালগঙ্গা নদীতে চলে যায়। প্রশাসনের অনুমান, ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০।
-
ভর্তি না খালি?: ভেসে যাওয়া সিলিন্ডারগুলির মধ্যে কোনগুলি গ্যাসভর্তি এবং কোনগুলি খালি ছিল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
“খবরদার! সিলিন্ডার ছুঁলে বিপদ”, সাধারণ মানুষকে কড়া বার্তা জেলাশাসকের
ঘটনার পরই রায়গড় জেলা প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুরক্ষায় জেলাশাসক কিশন জাওয়ালে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছেন:
-
স্পর্শ করায় নিষেধাজ্ঞা: নদী বা নদীর পাড়ে কিংবা লোকালয়ের আশেপাশে কোথাও কোনও গ্যাসের সিলিন্ডার দেখতে পাওয়া গেলে তা ভুলেও স্পর্শ না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
-
বাড়িতে নিলেই আইনি পদক্ষেপ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি: কোনও অবস্থাতেই নদী থেকে সিলিন্ডার তুলে বাড়ি নিয়ে যাওয়া, সরানো বা ব্যবহার করার চেষ্টা করা যাবে না।
-
বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা: যেহেতু সিলিন্ডারগুলির নিরাপত্তাজনিত অবস্থা (লিক বা ড্যামেজ) পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি, তাই সেগুলিতে হাত দিলে বা খোলার চেষ্টা করলে বড়সড় বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
-
প্রশাসনকে জানানোর নির্দেশ: কোথাও সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখলে অবিলম্বে স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনকে খবর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জারি রয়েছে ভারী বৃষ্টি, নজরদারিতে প্রশাসন
রায়গড়ের বিভিন্ন এলাকায় এখনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখে প্রশাসন উদ্ধার ও পর্যবেক্ষণ জারি রেখেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
