মেদ ঝরাতে ভরসা তিন ভেষজ মিশ্রিত জল
শরীরে বাড়তি ওজন জমার পেছনে শুধু অতিরিক্ত খাওয়া বা অনিয়মিত জীবনযাপনই নয়, পরিবেশ দূষণ ও খাদ্যের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা ক্ষতিকর পদার্থেরও একটি ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আমাদের যকৃত ও বৃক্ক সারাক্ষণ শরীরের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর উপাদান ছেঁকে বের করে দেওয়ার কাজ করে চলেছে। তবে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, কম জলপান, ঘুমের অভাব এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয়। তাই সুষম আহার ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলপান অত্যন্ত জরুরি। এই প্রেক্ষিতেই ভেষজ উপাদান মিশ্রিত জল অনেকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অনেকেই সকালে খালি পেটে উষ্ণ জলে লেবু ও মধু মিশিয়ে খান। এটি ঘরোয়া উপায় হিসেবে পরিচিত হলেও লেবুর টক উপাদান অনেকের ক্ষেত্রে অম্বল বা গ্যাসের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। সে কারণে তুলনামূলকভাবে মৃদু ও আরামদায়ক কিছু বিকল্প পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে, যা পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া না বাড়িয়ে শরীরকে সতেজ রাখবে এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সহায়তা করবে। তবে মনে রাখতে হবে, এই ধরনের পানীয় এক-দু’দিন শখ করে খেলে কোনও পরিবর্তন বোঝা যায় না। নিয়মিত খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের সঙ্গে টানা কয়েক মাস অভ্যাসে রাখলে তবেই ফল অনুভব করা সম্ভব।
শসা ও পুদিনা মিশ্রিত জল এ ক্ষেত্রে একটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প। শসায় প্রচুর জলীয় অংশ ও আঁশ রয়েছে, যা শরীর আর্দ্র রাখে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পুদিনা পাতা পেটের অস্বস্তি ও ফাঁপা ভাব কমাতে সহায়ক। একটি কাচের বোতলে তিন থেকে চার টুকরো শসা ও কয়েকটি পুদিনা পাতা দিয়ে পরিমাণমতো জল ঢেলে সারা রাত রেখে দিলে পরদিন সকালে সেই জল খালি পেটে পান করা যায়। নিয়মিত এই অভ্যাস শরীরকে সতেজ রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে পারে।
ধনেপাতা, পুদিনা ও বিভিন্ন মশলা মিশ্রিত জলও উপকারী বলে ধরা হয়। ধনেপাতা ও পুদিনা শরীর ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। আদা, দারচিনি, হলুদ ও লবঙ্গের মতো মশলায় প্রাকৃতিক প্রতিঅক্সিড্যান্ট উপাদান থাকে, যা কোষের ক্ষয় কমাতে সহায়তা করে। একটি কাচের পাত্রে এই উপাদানগুলি জলে ভিজিয়ে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে ছেঁকে পান করলে তা বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
আনারস ও পুদিনা মিশ্রিত জলও সমানভাবে জনপ্রিয়। আনারসে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম হজমে সহায়ক, আর পুদিনা শরীরকে সতেজ রাখে। দুই থেকে তিন কাপ জলে কয়েক টুকরো আনারস ও পাঁচ–ছয়টি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই জল পান করলে শরীর চাঙা থাকে এবং ক্যালোরি পোড়ানোর প্রক্রিয়ায় সহায়তা পেতে পারেন। একই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এই সব ভেষজ মিশ্রিত জল কোনও অলৌকিক সমাধান নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মিলিয়ে চললেই প্রকৃত উপকার মেলে। যাঁদের দীর্ঘদিনের অম্বল, রক্তে শর্করার সমস্যা বা অন্য কোনও শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত অভ্যাসে আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। সচেতন জীবনযাপনই সুস্থ শরীর ও নিয়ন্ত্রিত ওজনের মূল চাবিকাঠি।
